শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে মীর হেলাল ও “জুলাই যোদ্ধা” ওমর ফারুক সাগর

চট্টগ্রাম ব্যুরো   |   সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৩৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে মীর হেলাল ও “জুলাই যোদ্ধা” ওমর ফারুক সাগর
১৯

এই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে চট্টগ্রামের রাজপথে এক শক্তিমত্তার ছোঁয়া ছিল — মীর হেলাল ভাইয়ের অটল সমর্থন এবং গুলিবিদ্ধ ওমর ফারুক সাগরের সংগ্রাম। তাদের অবদানে ছাত্র‑জনতার আন্দোলন শুধু জীবন্ত ছিল না, বরং সাহস ও আইনি নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ৩০ জুলাই রাতে (প্রায় ১১টা) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক সিয়াম ইলাহি সঙ্গে কথা বলার সময় মীর হেলাল ভাই উদ্যোগী হোন: আন্দোলনের সুরক্ষা ও আইনগত সহায়তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি অবিলম্বে কয়েকজন দক্ষ আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করান — যাদের মধ্যে আছেন হাছান ভাই (চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক), নাজমুল ভাই, রনি ভাই। তার প্রতিশ্রুতি ছিল স্পষ্ট: “কোন চিন্তা নেই, সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।” যদি কোনো শিক্ষার্থী গ্রেফতার হয়, আইনগত সহায়তার পুরো দায়িত্ব তার হাতে থাকবে। ৩১ জুলাই, কোর্ট বিল্ডিংয়ের আশেপাশে যখন শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত ছিল, তখন ওই আইনজীবীর দল তাদের সঙ্গে হাত মেলিয়ে সুরক্ষা দান করে। তারা নিরাপদভাবে কোর্ট‑বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করান, যা ছাত্রদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং নিরাপত্তার অনুভূতি জাগিয়েছিল।

শুধু আইনগত সহায়তা না, মীর হেলাল ভাই ছিলেন আন্দোলনের মোরাল ও কার্যনির্বাহী সঙ্গী — রাজপথে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সাহস দান করতেন বিপদের সময়ে। “জুলাই যোদ্ধা” ওমর ফারুক সাগরের সংগ্রাম ওমর ফারুক সাগর, দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (চট্টগ্রাম কলেজ ইউনিট)-এর সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে মুরাদপুরে মিছিলের সময় পুলিশের গুলিতে বুকের ডান পাশে গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন। গুলির ফলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা বলেছিলেন গুলিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নার্ভে লেগেছিল, তাই তার পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময় নেয়। তার এই বীরত্বপূর্ণ দান তাকে ছাত্ররাজনীতির প্রতীক বানিয়ে দিয়েছে। “জুলাই যোদ্ধা” নামে সম্বোধন করা হয় তাকে। আন্দোলনের পরও তার ভূমিকা থেমে যায়নি — তিনি গতানুগতিক ছাত্রদল কর্মী নয়, বরং অ্যাডভোকেট ও সংগঠক হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। “আমি ছাত্রদলের একজন আদর্শকর্মী। গুলি আমাকে থামাতে পারেনি … যত দিন বাঁচবো, তত দিন রাজপথে থাকবো।”

এছাড়া, তিনি আন্দোলনের শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করেন এবং বিচার দাবি করে বারবার আওয়াজ তুলেছেন। মীর হেলাল ভাই ও ওমর ফারুক সাগরের একত্রিত ভূমিকা শুধু আন্দোলনের মুহূর্তিক সাফল্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না — এটি একটি সংগঠিত প্রতিরোধ ও নেতা প্রজন্ম গঠনে সহায়ক ছিল। আইনগত সুরক্ষা ও নেতৃত্বের সমন্বয় ছাত্রদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে শিক্ষার্থীরা নির্ভীকভাবে দাবি করতে পারে। তাদের সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে থাকবে — শুধু স্মরণে নয়, কাজেও। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্রআন্দোলনের সময় — বিশেষ করে ১৬ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে — মুরাদপুর এলাকায় মিছিলের সময় পুলিশের গুলিতে বুকের ডান পাশ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। চট্টগ্রামের জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে ব্যারিস্টার মীর হেলালের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার সাহস ও সমন্বয় ছাত্র আন্দোলনের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে, আর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সংগঠিতভাবে তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com