নিজস্ব প্রতিবেদক: | শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | ২১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আবারও বিতর্কিত এক সরকারি কর্মকর্তার রহস্যজনক পলায়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সেলর কাজী এমদাদুল ইসলাম নিয়ম লঙ্ঘন করে সরাসরি সৌদি আরব থেকে লন্ডনে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০১৮ সালের আলোচিত ও বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের সময় কাজী এমদাদুল ইসলাম সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় এবং সরকারি প্রভাবশালী মহলে ঘনিষ্ঠতার কারণে দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
জানা গেছে, গত ৩০ জুন তিনি জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে রিলিজ অর্ডার গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, রিলিজের পর ৬ দিনের মধ্যে ঢাকায় সশরীরে হাজির হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তিনি গোপনে তার যোগদানপত্র পাঠিয়ে দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে।
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে এবং অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের মিশন শাখার উপসচিব মাকসুদা খন্দকার সরাসরি এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে কাজী এমদাদুল ইসলাম দেশে ফেরেননি। জেদ্দা কনস্যুলেটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কনসাল জেনারেল মিয়া মো. মাইনুল কবিরের সহায়তায় তিনি বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি আরব ত্যাগ করেন এবং সরাসরি লন্ডনে চলে যান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভিতরে ‘পলায়ন সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একই ধরনের কৌশলে এনএসআইর সাবেক কর্মকর্তা বদরুদ্দিন আহমেদ বিদ্যুৎ, মেক্সিকো থেকে রাষ্ট্রদূত হারুনুর রশীদ এবং লন্ডন থেকে সাঈদা মুনা তাসনিমও পলায়ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে হজ কাউন্সেলর জহিরুল ইসলামকেও একই ধরনের পরিকল্পনায় লিপ্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি হচ্ছেন কারাগারে থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ও নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাঙ্গীর আলমের আপন ভাই।
এইসব ঘটনার পেছনে প্রশাসনের ভেতরে একটি সুসংগঠিত প্রভাবশালী মহলের মদদ রয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।
যোগাযোগ করা হলে মিশন শাখার উপসচিব মাকসুদা খন্দকার বলেন,
“আমি একজন ছোট কর্মকর্তা। সচিব ও ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশেই আমি কাজ করেছি। কাজী এমদাদুলের যোগদানপত্র গ্রহণে আমার কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে, কেন একজন কর্মকর্তা সশরীরে হাজির না হয়েও যোগদানপত্র দিতে পারলেন? কেন লুকিয়ে লন্ডনে চলে যাওয়ার সুযোগ পেলেন? কারা তাকে এই সুযোগ করে দিল?
এখন সময় এসেছে এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের আড়ালে থেকে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নির্বিঘ্নে বিদেশে পলায়ন একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে — যা রাষ্ট্রের জন্য চরম বিব্রতকর ও বিপজ্জনক।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com