কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : | রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুই ব্যবসায়ীর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে শহরের দুধসরা সড়কে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের ব্যবসায়ী এবং অপরজন ফুসকা-চটপটির দোকানদার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত পাশাপাশি দুটি দোকান ছিল—একটি চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান, অন্যটি ফুসকা-চটপটির দোকান। রাতের বেলায় দোকান দুটি বন্ধ থাকা অবস্থায় স্থানীয়রা হঠাৎ চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন।
এ সময় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দুইটি দোকানেই। পরে কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে দোকান দুটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের ব্যবসায়ী তৌহিদ অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের দোকানে আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালেও একইভাবে আগুন দিয়ে তার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আরেক চটের বস্তা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল। ওই ব্যক্তি ঘটনার একদিন আগে তাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। আগুনে তার প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফুসকা দোকানদার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গত চার বছরে এ জায়গায় দুইবার আগুন লাগল। আগুন লাগার কারণ তিনি জানেন না। আগেরবার সবকিছু পুড়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এবার আগুনে তার স্বপ্নের দোকানটিও পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, “এবার আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হাসেম জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো হতে পারে।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com