শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

টানা বৃষ্টিতে ভূরুঙ্গামারীতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দুশ্চিন্তায় কৃষক

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   |   বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

টানা বৃষ্টিতে ভূরুঙ্গামারীতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দুশ্চিন্তায় কৃষক
২৯

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, অস্বাভাবিক এই বৃষ্টিপাতে নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বোরো ধান ও ভুট্টা খেতে পানি জমে রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক ভুট্টা গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে, যা ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া পাটশাক, আলু, বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, কচুসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেকেই জানিয়েছেন, চৈত্র মাসে এত দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত এর আগে তারা দেখেননি। ফলে অনেক কৃষক এখনো পাট বীজ বপনের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারেননি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীতে ১,৪৮০ হেক্টর জমিতে গম, ১,০৭০ হেক্টরে ভুট্টা, ১,০৭০ হেক্টরে সবজি এবং ১৬,৪৮৫ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হেক্টর জমির ভুট্টা হেলে পড়েছে এবং প্রায় ২ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক এরশাদ আলী বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে ঝড়ো হাওয়ায় গাছগুলো হেলে পড়েছে। এখন আশানুরূপ ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।”

অন্য কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, “আগেই আলু উৎপাদনে খরচ উঠাতে পারিনি। তার ওপর ঝড়, শিলা ও টানা বৃষ্টিতে বেগুন, পাটশাক, করলা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের কৃষক সুররত আলী জানান, “ধানক্ষেতে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। এতে আমার আবাদকৃত ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে পাট বীজ এবং ৫০০ জন কৃষককে আউশ ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন প্রণোদনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com