শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ঠিকাদার লাপাত্তা, আশ্রয়ণ প্রকল্পে দাঁড়িয়ে আছে কলাম থেমে আছে নির্মাণ কাজ

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   বুধবার, ০৬ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঠিকাদার লাপাত্তা, আশ্রয়ণ প্রকল্পে দাঁড়িয়ে আছে কলাম থেমে আছে নির্মাণ কাজ
১৬

বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় বরাদ্দ হয়েছিল কোটি কোটি টাকা। কিন্তু সেই টাকা এখন বালুর স্তূপে চাপা পড়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগারির পোড়ারচরে (৮ নম্বর ওয়ার্ড) দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে চরম অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, আর বানভাসি মানুষের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

সরেজমিনে পোড়ারচরে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাজেটের এই বিশাল প্রকল্পে তিন তলাবিশিষ্ট মূল ভবন এবং গবাদিপশুর জন্য এক তলা ভবন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১২ বিঘা জমি বরাদ্দ নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে কেবল গবাদিপশু ভবনের ৪০টি কলাম। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মরিচা ধরা টিউবওয়েল, পচে যাওয়া তক্তা, বাঁশ ও ইটের খোয়া। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মিক্সচার মেশিন। এমনকি শ্রমিকদের থাকার ঘরটিও ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক বছর আগে কলামগুলো

তোলার পর হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে ঠিকাদার কিংবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-কাউকেই এলাকায় দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বশীলদের যোগসাজশেই প্রকল্পের টাকা লোপাট করে কাজ মাঝপথে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সদুত্তর মিলছে না।

 

প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেবল অবকাঠামোই নষ্ট হচ্ছে না, কাজ করা শত শত শ্রমিকের মজুরিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে, সামনে বর্ষা মৌসুম। নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলে প্রতিবছরই বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। চরের হাজারো মানুষের আশা ছিল, এবার হয়তো দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয় মিলবে। কিন্তু প্রকল্পের এই স্থবিরতায় আশ্রয়কেন্দ্রটিই এখন তাদের জন্য বড় ‘দুর্ভোগে’ পরিণত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমাদের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ আসে, কিন্তু কাজ হয় না। ১২ বিঘা জমি নষ্ট হলো, অথচ কাজের কাজ কিছুই হলো না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।”

 

পিআইও এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন রহস্যজনক নিরবতা ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুন্দরগঞ্জের সচেতন মহল। অন্যথায় এই বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com