তাড়াইল,কিশোরগঞ্জ(প্রতিনিধি): | বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বণিক সমিতির আয়োজনে চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে তাড়াইল উপজেলার সাচাইলের দারুল হুদা কাছেমুল উলুম মাদরাসায় “চুরি–ছিনতাই রোধে করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬অক্টোবর’২৫) সকাল ১১টায় উপজেলা সদর বাজারের সাচাইল দারুল হুদা কাছেমুল উলুম মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তাড়াইল উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি রোকন উদ্দিন মহাজন।প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া শাহীন, তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান ,ওসি (তদন্ত) শ্যামল,এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন ভূইয়া।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামির হোসেন সাকি।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। অপরাধ দমনে পুলিশ ও জনসাধারণের পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। সভায় বাজার ও রাস্তাঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাত্রীকালীন টহল বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবর্গসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে রোকন উদ্দিন মহাজন বলেন,এলাকায় চলমান চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। তাই তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সভায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পক্ষ থেকে বলা হয়—পুলিশি টহল বৃদ্ধি, রাত্রীকালীন চেকপোস্ট মজবুতকরণ এবং সংবেদনশীল সময় (সন্ধ্যা–রাত) বাজার এলাকায় মোবাইল টহল বাড়ানো হবে।
আলোচনায় যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে —
বাজার, ব্যস্ত সড়ক ও অন্ধকারকার খাতে পর্যাপ্ত
স্ট্রিটলাইট স্থাপন ও বিদ্যমান লাইটের দ্রুত মেরামত।
প্রধান বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগম স্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও রেকর্ডিং ব্যবস্থার ব্যবস্থা।
পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সমন্বয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম গঠন (রেসপন্স টিম)।
নারীদের ও বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা কর্মসূচি ও আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ।
সন্দেহভাজন ট্রানজিটকারীগণ/পরিবহনে লক্ষ রাখা ও অবাঞ্ছিত ক rমনাকাণ্ড নজরে আনা।
স্থানীয় কমিউনিটির মাঝে পহেলা বার্তা/হটলাইন নম্বরের তথ্য প্রচার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির নেতারা নিজ নিজ বক্তব্যপ বলেন, “আমরা পুলিশের সঙ্গে মিলিয়ে নিজ উদ্যোগেও দোকানপাটের বাইরে মূল্যবান জিনিস রাখছি না; বাজারের ব্যাবসায়ীরা সহজেই থানার যোগাযোগ বজায় রাখতে চাই।” একজন নারী অংশগ্রহণকারী বলে বলেন, “রাতের আলো-আঁধার আর সিসিটিভির ব্যবস্থা থাকলে ছিনতাইকারীরা কম সাহস করবে — আমাদের ছেলেমেয়েরা নিরাপদে চলাচল করবে।“
সভা শেষে প্রশাসন থেকে ঘোষণা করা হয় যে — দ্রুত পদক্ষেপের জন্য তাড়াইল উপজেলা, থানা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে এবং অল্পদিনের মধ্যে টহল-ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
সভা থেকে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—অংশগ্রহণ বাড়ান, সন্দেহজনক কোনো ঘটনা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় বা নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে জানান, এবং নিজ এলাকার ছোটাছুটি ও অন্ধকারে একা চলাচলের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেন, “নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব — প্রশাসন কাজ করবে, জনগণও সহযোগিতা করবে।”
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com