আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ও বর্বরোচিত ঘটনাটি শুধু রাজধানীতেই নয়, তীব্র ক্ষোভের ঝড় তুলেছে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায়। নিষ্পাপ রামিসার অকাল মৃত্যুতে কেঁদে উঠেছে সাধারণ মানুষের বিবেক। আজ চুপ থাকলে কাল তোমার মেয়েটাও রামিসা হবে-এমন দীপ্ত উচ্চারণে ধর্ষক খুনি সোহেল রানার দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে গানাসাস মার্কেটের সামনে ‘তোমার জন্য কাঁদছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখা।
কবিতা, কথায় প্রতিবাদ অনুষ্ঠানটি আবেগঘন হৃদয়স্পর্শী হয়ে ওঠে।
সংগঠনের সভাপতি কবি দেবাশীষ দাশ দেবুর সভাপতিত্বে প্রথমে কথা বলেন ও কবিতা পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি বর্মন। সাংস্কৃতিককর্মী শিরিন আকতারের সঞ্চালনায় প্রতিবাদী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষ, রাজনীতিক ওয়াজিউর রহমান রাফেল, মঞ্জুর আলম মিঠু, সুজন জেলা সভাপতি জিয়াউল হক কামাল, প্রগতি লেখক সংঘের গোলাম রব্বানী মুসা, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মৈত্রেয় হাসান জয়িতা, সংগীত শিল্পী মানিক লাল সরকার, যুব ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিজিৎ দাশ অভি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি করেন কবি অমিতাভ দাশ হিমুন, গৌতমাশীষ গুহ সরকার, পিটু রশিদ, মোহাম্মদ আমিন, মনির হোসেন সুইট, অঞ্জলী রাণী দেবী ও সোহেল রানা।
বক্তারা বলেন, “রামিসার রক্ত যেন বাংলাদেশের ঘুমন্ত বিবেক ও আইনকে জাগিয়ে তোলে।” কবিতার পঙ্ক্তিমালায় প্রতিবাদী কবিরা প্রশ্ন রাখেন—কেন বারবার শিশুদের এমন নির্মমতার শিকার হতে হবে? অবিলম্বে নারী ও শিশুর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, নারী ও শিশুর নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। পাশাপাশি নৃশংস খুনিদের যেন কোনো আইনজীবী আদালতে সমর্থন না করেন, সেই আহ্বানও জানানো হয়।
দেড় ঘন্টাব্যাপী প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিককর্মী, শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ। অংশগ্রহকারী প্রত্যেকের মন ছিল বিষাদগ্রস্ত।
উল্লেখ্য, রামিসা হত্যার ঘটনায় অপরাধী সোহেল রানার সর্বোচ্চ ও দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকরের জন্য ফুঁসে উঠেছে পুরো দেশ। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধার সর্বস্তরের মানুষ এখন সেই প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছে—কবে এই নরপিশাচ ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে, যাতে আর কোনো রামিসাকে এমন অকালে জীবন দিতে না হয়।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com