দেবিদ্বার প্রতিনিধি | সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আজ সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলামের উপস্থিতিতে সেনা কর্মকর্তা মেজর ইসকান্দার মির্জা, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এনামুল হক এর নেতৃত্বে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সময় ৩ নারী ও ৪ পুরুষ দালালসহ ৭ দালাল সদস্যকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, দেবীদ্বার পৌরসভার বারেরা গ্রামের এরশাদ মিয়ার পুত্র বিল্লাল হোসেন(৩৫) ও সুলতান আলীর পুত্র মোঃ জাকির হোসেন(৪০), উপজেলার ওয়াহেদপুর গ্রামের মৃত: হাবিবুর রহমানের পুত্র মোঃ বুলবুল হোসেন (৪২) ও বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী সাহিনা আক্তার(৪০), বারুর গ্রামের মৃত: ইসমাইল হোসেনের পুত্র আব্দুল জলিল(৩৭), ছোটআলমপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন এর স্ত্রী নাছিমা বেগম(৫৫), রসুলপুর গ্রামের মোঃ জিয়া খানের স্ত্রী ফাতেমা(৩০)।
ভোক্তভূগীরা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসলে দালালরা রোগি ও তাদের স্বজনদের কে কৌশলে দরিদ্র ও সহজ সরল রোগীদের সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে অনুৎসাহীত করে। পরে তাদেরকে কম খরচে ভালো মানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার নাম করে নিয়ে যায় তাদের পছন্দের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনেষ্টিক সেন্টার গুলোতে। সেখানে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনেষ্টিক সেন্টার চিকিৎসকেরা চিকিৎসার নামে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ কমিশন এর ভিত্তিতে ব্যবস্থাপত্রে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পছন্দ মতো বিভিন্ন কোম্পানির ঔষধ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগিরা ভালো চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ও চিকিৎসক কর্মচারীরা এই দালাল চক্রের কারণে সুচিকিৎসা দিতে পারছে।
উপজেলা সদরের ২০ থেকে ২৫ টি প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়োগনেষ্টিক সেন্টারে রয়েছে ও প্রায় অর্ধশতাধিক দালার সদস্য রয়েছে। তারমধ্যে কয়েকটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে রুগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও কিছু দালাল সরকারী হাসপাতালের ৫ টাকার টিকেটের মাধ্যমে বিনামূল্যের ঔষধগুলো চিকিৎসকদের কাছ থেকে লিখে নিয়ে রোগিদের মাঝে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করেন। রোগি বা তাদের স্বজনরা ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করলে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এমনকি চিকিৎসকরাও নানা ভাবে লাঞ্ছিত এবং মারধরের শিকার হচ্ছেন।
প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স চালকদের হুমকীর মুখে সরকারী হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে পারেনা। সরকারী এ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগি নামিয়ে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। রাত দিন ২৪ ঘন্টা সরকারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে একদল দালাল জরুরী যে কোন রোগি আসলেই রোগি দখলে নিতে দালালে দালালে টানা হেচরা এবং মারামারি শুরু করে দেন। আটককৃত ৭ দালালকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলাম (দন্ডবিধি ১৮৬ ধারায়) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com