শফিকুল ইসলাম বাদল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রতিনিধি | শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি এবং তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সরকারি জমি দখল ও মাদক ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সীমান্তবর্তী বাঙ্গরা বাজার পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, চেয়ারম্যান রবি ও তার ভাই শফিক দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। গত মঙ্গলবার সকালে বাঙ্গরা বাজারের সরকারি খাস জমিতে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এতে বাধা দেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই তারা বাঙ্গরা বাজারের সরকারি জমি দখল করে রেখেছেন। এর আগে মুরগি বাজারের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
শফিকুল ইসলাম শফিককে এলাকায় ‘চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং অতীতে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দোকান বরাদ্দের নামে বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শামীম আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আতিক সরকার বলেন,
“তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। আমরা এসব চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই শফিকুল ইসলাম শফিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“সংবাদ সম্মেলনে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি যৌথবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হয়।”
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com