শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক গুলিবিদ্ধ

শফিকুল ইসলাম বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :   |   মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক গুলিবিদ্ধ
৭৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বরিকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রাম যেন আবারও অস্থিরতার ছায়ায় ঢেকে গেল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে বাদ্যপাড়া এলাকায় ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা—চলন্ত সিএনজি থেকে এক যুবককে লক্ষ্য করে পরপর গুলিবর্ষণ।

গুলিবিদ্ধ যুবক ইমন মিয়া (২৩), পিতা: হোসেন মিয়া। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি সিএনজি তার কাছাকাছি এসে গতি কমায়। মুহূর্তের মধ্যেই পরপর তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ছিল মুখোশধারী। তাদের চলাফেরা ও প্রস্তুতিতে ছিল স্পষ্ট পরিকল্পনার ছাপ। তাৎক্ষণিক কোনো তর্ক-বিতর্ক নয়—বরং এটি ছিল লক্ষ্যভেদী, পূর্বপরিকল্পিত হামলা—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই। চলন্ত সিএনজি ব্যবহার করে এমন কৌশলী হামলা এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে একই এলাকায় আলোচিত এক হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়ভাবে ‘মনেক ডাকাত’ নামে পরিচিত ব্যক্তির ছেলে শিপন মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্রুপের হাতে নিহত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসীর ধারণা, সেই ঘটনার জের ধরেই সহিংসতার নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। কারণ গুলিবিদ্ধ ইমন মিয়া ছিলেন নিহত শিপনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর থোল্লাকান্দি ও আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এক বাসিন্দার কথায়,
“একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। আমরা সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
প্রশ্ন উঠছে—এটি কি কেবল বিচ্ছিন্ন হামলা, নাকি স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের নতুন রক্তাক্ত অধ্যায়?
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ঘটনাপরবর্তী অভিযান নয়—স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। থোল্লাকান্দির মানুষ এখন আর আশ্বাস নয়, নিরাপত্তার বাস্তব নিশ্চয়তা চায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com