ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০২৩ | প্রিন্ট | ১৬১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মনবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা লাউরফতেপুর ইউনিয়নে ৯৪নং হাজ্বিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা বিদুৎশাহী সদস্য দেলোয়ারা বেগম ও শিক্ষক প্রতিনিধি মমতাজ ভূইয়া বাদী হয়ে (২৩/৮) রোজ বুধবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবীনগর বরাবর সাক্ষর জালের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন।
উক্ত অভিযোগে দেলোয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, ৮মাস যাবত আমার কাছে কোন নোটিশ বই বা রেজুলেশন খাতা আমার কাছে স্বাক্ষর এর জন্য আসে নাই। আমি নোটিশ বই অথবা রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করি নাই। (২০/৮) তারিখ রোজ রবিবার আমার কাছে মিটিং এর সাক্ষরের জন্য আসলে আমি অবাক হয়ে যাই আমার কাছে দীর্ঘ ৮ মাস যাবত কোন স্বাক্ষর নিতে আসে নাই, আজ কিসের স্বাক্ষর নিতে আসলো? আমি জিজ্ঞাসা করলে আমাকে বলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং আছে তাই আপনাকে অবগত করা যাচ্ছে যে, উক্ত মিটিংয়ে আপনার উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। এই মর্মে একটা নোটিশ খাতা আমার কাছে আসে। ঐ নোটিশ খাতায় দেখতে পেলাম ৮মাস যাবত আমি যেসব সাক্ষর করি নাই বা অবগত নয়। সে সব তারিখে আমার সাক্ষর কে বা কাহারা জাল করে আসছে, আমি হতবাক হয়ে আমার স্বামী( পিটি আই শিক্ষক) মুকবিল হোসেনের সাথে পরামর্শ করি। তখন তিনি বলেন – তুমি যে বিদ্যালয়ের টি আর এর ৪০০০০০ (চার লক্ষ টাকা) কোন খেতে খরচ করেছে তার হিসাব চাওয়াতে মনে হয় তোমাকে এত দিন মিটিংয়ে ডাকে নাই এবং আমিও আজ পরস্পর শুনতে পেলাম ম্যানেজিং কমিটির লোকজন নাকি তোমার একাধিক স্বাক্ষর জাল করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আর দেরি না করে, দুই এক দিনের ভিতরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ করো। আমি ওনার কথা শরণাপন্ন হয়ে লিখিত অভিযোগ করলাম এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।

শিক্ষক প্রতিনিধি মমতাজ ভূইয়া উল্লেখ করেন(১৬/৮) ইং হাজ্বিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম আমাকে ফোন করে জানান পর পর তিন কার্যকারী মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকলে সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়। আমি অবাক হয়ে যাই আজ প্রায়ই তিন বৎসর ম্যানেজিং কমিটির কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন মিটিং এর জন্য ফোন অথবা চিঠি কিংবা রেজুলেশন খাতা আমার কাছে আসে নাই পরস্পর ভাবে শুনতে পেলাম আমার একাধিক স্বাক্ষর জাল করে সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে আমি জানার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নবীনগর বরাবর লিখিত অভিযোগ করি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি কামনা করছি।
এই ব্যাপারে ৯৪নং হাজ্বিপুর সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরুষ বিদুৎশাহী সদস্য আবু মোছা বলেন – অনেক দিন ধরে দেলোয়ারা বেগম মিটিংয়ে আসে নাই, তবে স্বাক্ষর জালেব ব্যাপারে শুনেছি এবং শিক্ষক প্রতিনিধি মমতাজ ভূইয়া আজ পর্যন্ত একটি মিটিংয়ে ও আমার জানানমতে আসে নাই। হাজ্বিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন– আমাদের দপ্তরি আছে তাকে দিয়ে অবগত করানো হয়, যদি প্রায়ই সময় না আসেন দেলোয়ারা বেগম উনার স্বামী পি টি আই সভাপতি সাবেক মেম্বার মুকবিল হোসেন দেলোয়ারা বেগমের স্থানে স্বাক্ষর করেন। মমতাজ ভূইয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন উনাকে যখন শিক্ষক প্রতিনিধি বানিয়েছি তখন উনার বাসুর ( স্বামীর ভড় ভাই) বিদ্যায়ের সহ-সভাপতি মাহবুব সাহেব উনার পক্ষে স্বাক্ষর করেন কারন উনি শিক্ষকতার কাজে শ্রীকাইল থাকেন।
সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি রোগী নিয়ে ব্যস্ত, স্বাক্ষর নিয়ে এমন ঘটনা আমার জানা নেই, তবে উনার স্বামী স্বাক্ষর দিতে পারে প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারে বলে এরিয়ে যান।৯৪নং হাজ্বিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শম্পা সুলতানা সাংবাদিকের পরিচয় জেনে পরে কথা বলবে বলে ফোন রেখে৷ দেন। নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল বলেন আমার টেবিলে এখনো অভিযোগ আসেনাই আসলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রায়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রাহন করা হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com