কিশোরগঞ্জ ও ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি | শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মঙ্গলবার এলেই যেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মাইজহাটী গ্রামের মুশুল্লী ইউনিয়ন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক আলাদা আধ্যাত্মিক আবহ। ভোররোদে চারদিক থেকে ছুটে আসেন শত শত নারী-পুরুষ ভক্ত। কারও চোখে আশা, কারও মনে অদম্য বিশ্বাস—সবাই গন্তব্যস্থল একটাই, সাত্তারিয়া মাইজহাটী দরবার শরীফ। সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই দরবার শরীফের আশপাশে শুরু হয় ভক্তদের আনাগোনা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন পীর হুজুরের সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য। কেউ এসেছেন পারিবারিক অশান্তি নিয়ে, কেউ দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কষ্ট নিয়ে, আবার কেউ মানসিক অশান্তির সমাধান খুঁজতে। প্রায় দুই যুগ আগে আধ্যাত্মিক সাধনা ও ত্যাগের মাধ্যমে হযরত আব্দুস সাত্তার (রহ.) প্রতিষ্ঠা করেন এই দরবার। তিনি ছিলেন খ্যাতিমান আধ্যাত্মিক সাধক ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক মহৎ ব্যক্তিত্ব। প্রায় ২০ বছর আগে তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর রেখে যাওয়া আধ্যাত্মিক ধারা আজও প্রবাহিত হচ্ছে তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি পীর সাহেবজাদা আলহাজ হযরত মাওলানা মিল্লাত রাব্বী-এর নেতৃত্বে। গদিনশীন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মিল্লাত রাব্বী পীর হুজুর মানুষের মাঝে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলেন, তাঁর আন্তরিকতা, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের কারণে দিন দিন দরবারে ভক্তদের সংখ্যা বাড়ছে।
প্রতি মঙ্গলবার দরবারে এক অনন্য দৃশ্য দেখা যায়। একটি নির্দিষ্ট কক্ষে বসে পীর হুজুর ধৈর্যসহকারে ভক্তদের কথা শোনেন। বাইরে দাঁড়ানো ভক্তরা একে একে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এরপর তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিভিন্ন দোয়া, ওয়াজিফা, তেল পড়া ও পানি পড়া প্রদান করেন। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই আমলগুলো আল্লাহর রহমতে জীবনের জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়ক।
দরবারে আসা ভক্তরা জানান, প্রথমেই পীর হুজুর সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ফিরে আসতে, নৈতিক জীবন গড়তে এবং ধৈর্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে জীবনের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে উৎসাহিত করেন। অনেকে দাবি করেন, নিয়মিত নামাজ, দোয়া ও দেওয়া ওয়াজিফা অনুসরণের পর তাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার উপশম হয়েছে। এজন্য যারা একবার উপকৃত হয়েছেন, তারা পরবর্তীতে নিজেদের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদেরও এখানে নিয়ে আসছেন। টাকা-পয়সার প্রসঙ্গে ভক্তরা জানান, দরবারে কোনো নির্ধারিত অর্থ নেওয়া হয় না। তারা বলেন, “ডাক্তারের কাছে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়, তবুও অনেক সময় রোগ ভালো হয় না। কিন্তু এখানে এসে আমরা দোয়া ও আমলের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও উপকার পেয়েছি। নান্দাইলের সুপরিচিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব মিল্লাত রাব্বী পীর হুজুর একজন খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন ও পীরে কামেল হিসেবে মানুষের কাছে সমাদৃত। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তিনি মানুষের আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন এবং সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, আধ্যাত্মিক চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এই সাত্তারিয়া দরবার শরীফ নান্দাইলসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের কাছে এক অনন্য আস্থার কেন্দ্র এবং আত্মিক প্রশান্তির ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com