আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জীবনের প্রতিটি মোড় ঘুড়ে ঘুড়ে পথ চলা , সে পথ সরল হলেও মনে হয় বড়ই দূর্গম। এ পথের নেই শেষ ঠিকানা। এমন পথচ্যুত পথিকের চোখে পড়ে ধু ধু প্রান্তর, বার বার ছলনায় মেতে উঠে মরিচিকা। প্রকৃ্তি যেন তার সাথে কোনো দুরভিসন্ধি করে। আনমনে তপ্ত সুর্য তার পানে চেয়ে পরিহাস করে। এ যেন জীবনের এক জটিল হিসেব। তবুও পথিক চলে তার নব প্রেরনা নিয়ে এ যেন প্রকৃতির অনবদ্য সৃষ্টির মাঝে হারিয়ে যাওয়া। তবুও থেমে থাকে না তার পথচলা। ছুটে চলে অদিষ্টের সন্ধানে। ক্লান্ত দু’চোখে স্বপ্নজাল বুনে, রং আর তুলিতে সাজায় তার কল্পতলাকে। পরিশ্রান্ত সে পথিক তবুও থেমে থাকে না, ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে হয়ত কোনো একদিন খুঁজে পাবে তার সেই পথকে। সকল বিষণ্ণতাকে পিছনে ফেলে তাই তার পথচলা।
এই পথেই কোনো একদিন থেমে যাবে তার চলার গতি, নয়তো সে হারিয়ে যাবে চিরতরে। বলছিলাম, গাইবান্ধা পৌর শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেঁষে গোরস্থান সংলগ্ন ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে মুক্ত বাতাসে প্রশান্তির ঘুমে ঘুমিয়ে থাকা নীড় হারা এক পথিকের কথা। ফুটপাতে রাস্তার ড্রেনের ঢাকনার ওপর ব্যানার বিছিয়ে হাতের পোটলাটাকে মাথার নিচে বালিশ বানিয়ে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। পায়ের কাছে জুতা, পাশে ছিল পথ চলার সম্বল একটি বাঁশের লাঠি। তার এ ঘুম যেন আপন ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে বড্ড ক্লান্ত ঘুম। এ দৃশ্য দেখে পথচারীরা একটু হলেও থমকে দাঁড়ান। তারা মনে করেন, ছিন্নমূল বা নিঃস্ব এ সব অসহায় মানুষদের জীবন সমাজের উদাসীনতাকে নির্দেশ করে। যাদের আপনজন বা স্থায়ী বাসস্থান নেই, রাস্তাঘাটই তাদের নিত্যদিনের আশ্রয়। সেখানে তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেয়ার মতো কেউ থাকে না। এ যেন নিজের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হবার অসহ্য যন্ত্রণার এক প্রতীক।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com