আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পানি নেই, জাল আছে। তবুও থেমে নেই জীবন জীবিকার সংগ্রাম। বুক ভরা আশা নিয়ে গ্রামের পথ ধরে শুকনো তিস্তার বুকে হেঁটে চলা। কাঁধে ঝুলে থাকা জালে মাছ নেই, আছে অপেক্ষা। ধুলোবালির রাস্তায় পায়ের ছাপ রেখে এগোয় তারা, যেন প্রতিটা পদচারণাই নদীকে আবার ফিরে আসার ডাক। বলছিলাম, তিস্তা পাড়ের জেলেদের কথা।
পানি নেই তিস্তায়। বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে মৎস্যজীবীদের নৌকা। বর্ষাকালে দিনভর মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলেও এখন নদীতে পানি না থাকায় জাল বোনা আর পানির অপেক্ষায় বসে আছেন তারা। এ তিস্তা নদী এখন বিস্তীর্ণ বালুচর। কোথাও হাঁটু পানি কোথাও বালু খাঁ খাঁ করছে। নদীর কিছু অংশে পানি থাকলেও নেই মাছ। এতে উপার্জন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা। উত্তরের জেলা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে এ তিস্তা নদী।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তিস্তার বিস্তীর্ণ বালুচর ধু ধু করছে। পানি না থাকায় নদীতে নৌকা নামাতে পারছেন না জেলেরা। জাল বোনে অবসর সময় পার করছেন মৎস্যজীবীরা। তিস্তা তীরবর্তী মানুষের জীবন ও জীবিকা এই নদী ঘিরে। সেই নদী এখন বিস্তীর্ণ বালুচর। কিছু অংশে পানি থাকলেও নেই মাছের দেখা। তাই উপার্জন না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা মৎস্যজীবীদের।
তিস্তা পাড়ের জেলে আতাউর রহমান বলেন, ‘এক সময়ে নদীতে সবসময় পানি ছিল। আমরা এক বুক পানিতেও মাছ ধরেছি। সে সময় ভালোই মাছ পাওয়া যেত। এখন শীতকালে বালুচর হয়ে গেছে গরমকালে অবস্থা আরও খারাপ হবে।’
আরেক জেলে লাভলু মিয়া বলেন, ‘আমরা এখন মাছ ধরতে পারছি না। সারাদিন হাঁটু পানিতে জাল ফেলেও তেমন মাছ পাইনা ৷ পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। জাল বুনছি, জাল বাজারে নিয়ে গেলেও তেমন কেউ কিনতে চায় না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
সচেতন মহল মনে করেন, নদীকে বাঁচাতে খননকাজ, অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং নদী ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এটি একটি পরিবেশগত বিপর্যয়ের বার্তা, যেখানে নদী ও মানুষের জীবন একে অপরের সাথে মিশে আছে
নদীতে পানি নেই ধরা পড়ছে না মাছ। তবুও জাল নিয়ে
জেলেদের চোখে মুখে নদীকে আবারও প্রাণবন্ত হয়ে ফিরিয়ে আসার আকুল ডাক।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com