আনোয়ার হোসেন | শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আকাশে জমেছে কালো মেঘ, এর সাথে যেন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এই বুঝি বৃষ্টি আসে। অবস্থা দৃষ্টিতে এমন মনে হলেও এটি প্রকৃতির আকাশে নয়। শোভা পাচ্ছে বিদ্যালয়ের ছাদের নিচে রং তুলির আঁচড়ে। যদি শান্তি চাও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাও! … স্বীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।ব্যতিক্রম ধর্মী এই বিদ্যাপিঠের নাম ‘ কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক সৃজনশীল পদ্ধতিতে করা হয় পাঠদান। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিভৃত পল্লী কামারপাড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া বাজার সংলগ্ন সবুজ শ্যামলে ঘেড়া এক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই বিদ্যাপিঠ।
গাছ-গাছালি আর পাখির কলতানে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া যেন হৃদয় কেড়ে নেয় শহর ছেড়ে গ্রামের কারুকার্য অঙ্কিত, দৃষ্টিনন্দন এই বিদ্যাপীঠটি। যেখানে সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে এই বিদ্যাপীঠ অঙ্গন। প্রকৃতির কাছে, গ্রামীণ পরিবেশের বিদ্যালয়টি নান্দনিকতায় যেন নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। আপন মনে শিশুরা খেলা করছে। লেখাপড়া করছে মনের আনন্দে। অসাধারণ, সাদামাটা একটি গ্রাম। যেখানে সকাল থেকেই জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খেটে খাওয়া মানুষের। মা-মাটির গন্ধ যেখানে মিশে আছে। সেখানেই আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা লাভ করছে শিক্ষার্থীরা। ভোরে আলো ফোটার পর যেখানে পাখির কিচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে যায়। শিক্ষার জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ। এখানে শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করে।
শিশুদের জন্য খেলার মাঠের এক পাশে রয়েছে দোলনাসহ খেলার বিভিন্ন সামুগ্রী। দেখলে মনে হবে মাঠ নয়, যেন মিনি শিশুপার্ক। সবুজ দুর্বা ঘাস আর সবুজ পাতার ফাঁকে তারা যেন শৈশবকে হাসি, ঠাট্টা আর আনন্দ উপভোগ করে কাটিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে এতটাই আধুনিকতার পরশ রয়েছে যে, এর ভিতরের নান্দনিক দৃশ্য দেখলেই বিস্মিত হবে না এমন কেউ নেই। প্রতিটি শ্রেণি কক্ষকের দেয়ালে এবং সিঁড়ির দু’পাশে শোভা পাচ্ছে স্বাধীনতার মহান পুরুষ, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের শহীদের প্রতিকৃতিসহ কবি-সাহিত্যিকদের ছবি। এ ছাড়াও রয়েছে বাঘ, ভালুক, ময়ূর, চিত্রা হরিণ, খরগোশ, হাতি, বক, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণীর ছবি। প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষটি স্থান পেয়েছে শিল্পীর রং তুলির আঁচড়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
পড়া-লেখার পাশাপাশি ছবি আঁকাসহ খেলার জন্য রয়েছে প্লাস্টিকের পুতুলসহ বিভিন্ন ধরণের খেলনা সামুগ্রী। এসব দেখে স্কুল ছেড়ে ফিরতেই চায় না শিশুরা। ছুটি হলেই মন যেন ভার। এখানে রয়েছে সততা ষ্টোর। মালিক বিহীন এই ষ্টোরে রয়েছে খাতা-কলম, চকলেটসহ বিভিন্ন সামুগ্রী। শিশুদের মধ্যে সততার বিকাশ ঘটাতেই নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ। রয়েছে মিলনায়তন কক্ষ। এটিও সাজানো হয়েছে শিল্পীর রং তুলির আঁচড়ে নান্দনিকতায়। দেখলেই মনে হবে এটি মিলনায়তন নয়, যেন হাওয়াখানা। পৃথক ভাবে রয়েছে নামাজ আদায়ের কক্ষ। এ বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনে রয়েছে দুটি ছাদ বাগান।
এবাগানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলসহ ফলের গাছ। এ বাগানে প্রবেশ করা মানেই প্রকৃতির মাঝে যেন হারিয়ে যাও। সহকারী শিক্ষিকা নাদিরা বেগম বলেন, বিদ্যালয়টি ১৯০৮ সালে স্থাপিত হয়। এখানে ৮ জন শিক্ষকের জন্য রয়েছে ৩২২ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী অনুপাতে এখানে আরও ৪ জন শিক্ষক প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধিসহ মাঠ ভরাট করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, রংতুলির আঁচড়ে সাজিয়ে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে বিদ্যালয়টিকে শিশুবান্ধব করার সব রকম চেষ্টা চলছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিদ্যালয়টি সাদুল্লাপুর উপজেলার অন্যতম একটি বিদ্যালয়। এখানে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য সৃজনশীল অনেক কিছু জিনিস আছে যা শিক্ষার্থীদের মনকে দোলা দেয়। বিদ্যালয়টি দিন দিন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, এলাকাবাসী সম্পৃক্ত হচ্ছে। আশাকরি বিদ্যালয়টি এক দিন জাতীয় পর্যায়ে উন্নিত হবে। উন্মোচন হবে নয়া দিগন্তের।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com