শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

প্রকৃতির মাঝে দৃষ্টিনন্দন বিদ্যাপীঠ গাইবান্ধার লেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   সোমবার, ১১ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রকৃতির মাঝে দৃষ্টিনন্দন বিদ্যাপীঠ গাইবান্ধার লেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৪৬

প্রকৃতির বাগানে ফুটেছে রংবেরঙ্গের ফুল। সেই ফুলে আকৃষ্ট হয়ে ডানা মেলে বসে আছে প্রজাপতি। অবস্থা দৃষ্টিতে এমন মনে হলেও এটি প্রকৃতির বাগান নয়।

শিল্পীর তুলির জাদুতে জড় বস্তুও জীবন্ত হয়ে উঠেছে, বিদ্যালয়ের ছাদের নিচে এবং প্রতিটি দেয়ালে। এমন চিত্রকর্ম শিশুদের শৈল্পিক মনন তৈরিতে এবং পড়াশোনার মাঝে প্রকৃতির সান্নিধ্য অনুভব করতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। দেখলেই মনে হবে শিল্পী হয়তো বাস্তবের চেয়েও সুন্দর করে তার কল্পনার জগতকে ফুটিয়ে তুলেছেন ঐ ছাদের ক্যানভাসে।

যদি শান্তি চাও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাও! … স্বীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ। ব্যতিক্রমধর্মী এই বিদ্যাপীঠের নাম ‘লেংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক সৃজনশীল পদ্ধতিতে করানো হয় পাঠদান।

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার নিভৃত পল্লী লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লেংগাবাজারের সবুজ শ্যামলে ঘেড়া এক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই বিদ্যাপিঠ। গাছ-গাছালির ছাঁয়া আর পাখপাখালির কলতান গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া যেন হৃদয় কেড়ে নেয় শহর ছেড়ে গ্রামের কারুকার্য অঙ্কিত, দৃষ্টিনন্দন এই বিদ্যাপীঠটি। যেখানে সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে বিদ্যাপীঠ অঙ্গন। প্রকৃতির কাছে, গ্রামীণ পরিবেশের এই বিদ্যাপীঠটি নান্দনিকতায় যেন নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। আপন মনে শিশুরা খেলা করছে। লেখাপড়া করছে মনের আনন্দে।

 

লেংগাবাজারের অবস্থান অসাধারণ, সাদামাটা একটি গ্রামে। যেখানে সকাল থেকেই জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খেটে খাওয়া মানুষের। এই গ্রামে মিশে আছে মা-মাটির গন্ধ। যেখানে ভোরে আলো ফোটার পর পাখির কিচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে যায়।

সেখানেই আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা লাভ করছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার জন্য প্রয়োজন এমনই একটি সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ। এখানে শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করে। শিশুদের জন্য খেলার মাঠের এক পাশে রয়েছে দোলনাসহ খেলার বিভিন্ন সামুগ্রী। অভিভাবকদের বসার দৃষ্টিনন্দন হাওয়াখানা। দেখলে মনে হবে এটি মাঠ নয়, যেন মিনি শিশুপার্ক। সবুজ দুর্বা ঘাস আর সবুজ পাতার ফাঁকে কোমলমতি শিশুরা যেন শৈশবকে হাসি, ঠাট্টা আর আনন্দ উপভোগ করে কাটিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যাপীঠটিতে এতটাই আধুনিকতার পরশ রয়েছে যে, এর ভিতরের নান্দনিক দৃশ্য দেখলেই বিস্মিত হবে না এমন কেউ নেই। প্রতিটি শ্রেণি কক্ষকের ছাদের নীচে এবং দেয়ালে শিল্পীর তুলির আঁচড়ে শোভা পাচ্ছে ফুল, প্রজাপতি আর বর্ণমালার ছবি। বিদ্যালয় ভবনের সামনে খোলা আকাশের নীচে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। বাগানে ফুটেছে ফুল। এর মাঝে শোভা বর্ধন করছে দৃষ্টিকারা বাংলাদেশের বিশাল আকৃতির মান চিত্র আর পতাকাবেদী। রয়েছে বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি। এই সৌন্দর্যবর্ধন বাগানটি শুধু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নয় দৃষ্টি কাড়ে সাধারণ মানুষেরও।

 

প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষটিও স্থান পেয়েছে শিল্পীর রং তুলির আঁচড়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। পড়া-লেখার পাশাপাশি ছবি আঁকাসহ খেলার জন্য রয়েছে প্লাস্টিকের পুতুলসহ বিভিন্ন ধরণের খেলনা সামুগ্রী। এসব দেখে স্কুল ছেড়ে ফিরতেই চায় না শিশুরা। ছুটি হলেই মন যেন ভার। এখানে রয়েছে সততা স্টোর। মালিক বিহীন এই স্টোরে রয়েছে খাতা-কলম, চকলেটসহ বিভিন্ন সামগ্রী। শিশুদের মধ্যে সততার বিকাশ ঘটাতেই নেয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ। রয়েছে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের বসার আলাদা কক্ষ। এটিও সাজানো হয়েছে শিল্পীর রং তুলির আঁচড়ে নান্দনিকতায়। এক কথায় এ বিদ্যাপীঠে প্রবেশ করা মানেই প্রকৃতির মাঝে যেন হারিয়ে যাওয়া। প্রকৃতির আসল রূপ আর শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়া মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে এই বিদ্যাপীঠে।

 

শিক্ষকরা বলেন, এই বিদ্যাপীঠটি ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ১২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য রয়েছে ৫০৯ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী অনুপাতে এখানে শ্রেণি কক্ষ সংকট। বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হাপিয়ে উঠে। তাই এখানে একটি আইপিএস জরুরী প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধিসহ মাঠ ভরাট করা প্রয়োজন। তারা বলেন, রংতুলির আঁচড়ে সাজিয়ে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে বিদ্যাপীঠটিকে আরও নান্দনিক শিশুবান্ধব করার সব রকম চেষ্টা চলছে।

 

এই বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, এই বিদ্যাপীঠটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার অন্যতম একটি বিদ্যাপীঠ। এটি আনন্দময় ও নান্দনিক পরিবেশে শিশুদের সৃজনশীল, চিন্তাশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এখানে রয়েছে সৃজনশীল অনেক কিছু জিনিস, যা শিক্ষার্থীদের মনকে দোলা দেয়। এখানে দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের অনুপ্রেরণা আর ঐকান্তিক চেষ্টায় শিক্ষারমান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, এলাকাবাসীও সম্পৃক্ত হচ্ছে। আশাকরি এই বিদ্যাপীঠ এক দিন জাতীয় পর্যায়ে উন্নিত হবে। উন্মোচন হবে নয়া দিগন্তের।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com