শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

প্রার্থী হই আর না হই, রাঙ্গুনিয়ার সন্তান হয়েই থাকবো: হুমাম কাদের

এম. মতিন:   |   রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ২৯১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রার্থী হই আর না হই, রাঙ্গুনিয়ার সন্তান হয়েই থাকবো: হুমাম কাদের
৬৭

যেই ভুল আওয়ামীলীগ করেছে, সেই একই ভুল আমরা করতে চাই না। আমরা চাই না যারা কোন অপরাধ করেনি, তাদের কোন কষ্ট না দিতে। এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে লুকিয়ে আছে আওয়ামীলীগের মানুষ। ঘর থেকে বের হয় না। তবে জানিয়ে দিতে চাই, তারাও সুযোগ খুঁজছে। বার বার ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই নতুন রাজনৈতিক দল তারাই সুযোগ করে দিচ্ছে এই আ. লীগদেরকে। আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসনের জন্য কেনো তাদের উষ্কানি দিচ্ছে আমরা এখনো বুঝতে পারলাম না। আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটার ফলাফল কি হবে। তবে আওয়ামীলীগ যদি গর্ত থেকে বের হয়, তবে সকলের দায়িত্ব তাদেরকে ধরিয়ে দেয়ার।’ এখনো যারা আমাদের মাঝে লুকিয়ে আছে, তাদের বিচার ইনশাল্লাহ এই মাটিতে হবে।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকাল ৩টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

রাঙ্গুনিয়ার সন্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর শেষ ইচ্ছে ছিলো রাঙ্গুনিয়ায় দাফন করার। উনি রাঙ্গুনিয়ার ভোটার ছিলেন। বাবার বাড়ি এখনো সকলে চিনেন কাদের নগর হিসেবে। বাবাকে সকলে জানতো রাঙ্গুনিয়ার সন্তান হিসেবে। তাহলে আমার প্রশ্ন আমি কোন ঘরের সন্তান। আমি বলতে চাই, নমিনেশন হোক আর না হোক, প্রার্থী আমি হই আর না হই, আমি রাঙ্গুনিয়ার সন্তান। বাবা থেকে শিক্ষা পেয়েছি, যাদেরকে বুক দিয়েছি, তাদেরকে পিঠ দেবো না। আপনারা আমার বিপদে আমাকে বুক দিয়েছেন, যতদিন বেঁচে আছি, আপনাদের পাশে থাকবো, আপনাদের জন্য কাজ করবো। আপনারা আমাকে পছন্দ করেন আর নাই করেন, আমি তো আপনাদের ভালবাসি, ভালবেসে যাবো।’

হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘বলেছিলাম না, আমার বয়স কম—রক্ত গরম। ততক্ষণ আমার এই রক্ত ঠান্ডা হবে না, যতদিন এই আওয়ামীলীগের বিচার না হবে। এখন সময় এসেছে, তাদের স্বীকার করতে হবে তারা অপরাধ করেছে, ১৪’শ সন্তানদেরকে তারা হত্যা করেছে, এই দেশকে তারা লুঠপাট করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মন অনেক বড়, ক্ষমা করে দিতে পারি। তবে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে, স্বীকার করতে হবে তাদের ভুলগুলো। কিন্তু এখনো তারা স্বীকার করছে না। ইতিমধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। হয়ত নির্বাচনের আগে কিছু কিছু বিচার আমরা দেখতে পাবো। তবে ইন্টেরিয়ামের উপর ভরশা করছি না তারা বিচার করবে। যেইদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসবে, আওয়ামীলীগের বিচার সেইদিন থেকে শুরু হবে।’

রাঙ্গুনিয়ায় তিনটি সমস্যা বিরাজমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে এখন তিনটাই সমস্যা, চাঁদাবাজি, বালু, আর মাদক ব্যবসা। মাদক সমাজ ধ্বংস করছে, বালু গ্রাম ধ্বংস করছে আর চাঁদাবাজি মানুষের ঈমান ধ্বংস করছে। যারা এসবের সাথে জড়িত, তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিবেন। বালুর ব্যবসার সাথে যারা জড়িত, তারা আমার পাশে আর নেই। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কিংবা তার পরিবারের নাম বিক্রি করে যারা চাঁদাবাজি করবে, অবৈধ ব্যবসা করবে তাদের বিচার আপনারাই করবেন।’

নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘সকলেই অপেক্ষায় আছেন কখন নির্বাচনের ঘোষণা আসবে। তবে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য। যদি হুকুম হয়ে যায় নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে, তখনও আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমরা গত ১৬ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যেকোন মুহুর্তে নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। রাঙ্গুনিয়ার মানুষ প্রস্তুত রয়েছে বিচার করার জন্য, নির্বাচন করার জন্য এবং লড়াই করার জন্য।’

নেতাকর্মীদের দলীয় গ্রুপিং না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই আবেগে অনেক কিছু বলে ফেলেন। দলের সকলেই আমার ভাই, সকলেই আমার চাচা। তাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করবেন। একসাথে পথ চলবেন। কাউকে হেয় করবেন না। আমার বাবাকে যদি আপনারা মহব্বত করে থাকেন, তাহলে এই জিনিসটা আপনারা আমার জন্য করবেন।

এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে এদিন দুপুরের পর থেকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে পৃথক মিছিলসহকারে নেতৃবৃন্দ জনসভায় যোগ দেন। হুমাম কাদেরের উপস্থিত হওয়ার পর জনসভার মাঠ ছাপিয়ে হাজারো নেতাকর্মী সড়কে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা এদিন নিজেদের বক্তব্যে গত ১৬ বছরের ত্যাগের কথা তুলে ধরেন এবং এখন সুযোগ সন্ধানীদের জন্য প্রকৃত নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে এবং বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিজামুল হক চৌধুরী তপনের সভাপতিত্বে ও কাজী নাজিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক বেতাগী ইউপি চেয়ারম্যান এবং উত্তরজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে করিম মিনা, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, উত্তরজেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলী নূর, এডভোকেট কামাল হোসেন, হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস শিকদার, মছিহুদ্দৌলা চৌধুরী, নাসির উদ্দীন নসু, ইউসুফ শিকদার, ভিপি আনছুর উদ্দিন, এস এম ইফতেখার হোসেন রুবেল, ফারুকুল ইসলাম, পারভেজ মোশাররফ, আবু বক্কর, হেলাল আহমদ, আশরাফুল হক হারুন।

বক্তব্য দেন সৈয়দ মোহাম্মদ সাবেরুল ইসলাম, আলী আকবর, কাজী মোহাম্মদ জালাল, খালেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ হারুন, ফজলুল কাদের, আব্দুল আজিজ পলাশ, শাহাদাত তালুকদার, জিয়াউল হায়দার রায়হান, মো. মফিজ, মো. আরিফ, দিদারুল আলম, মিশন চৌধুরী, মো. শাহেদ, আহাদুল হক প্রমুখ।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com