ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: | মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরে তথ্য সংগ্রহকালে হামলার শিকার হয়েছেন হাসান মাতুব্বর ওরফে শ্রাবণ ও মো. তাওহীদুল ইসলাম ওরফে পাজবা নামে দুই সাংবাদিক। এ সময় ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘণ্টা জিম্মি করে রাখে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় সাংবাদিক নেতা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে জেলার মধুখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হাসান মাতুব্বর দৈনিক আজকের পত্রিকার ও তাওহীদুল ইসলাম দৈনিক খবর বাংলাদেশ পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।
হাসান মাতুব্বর বলেন, সম্প্রতি ফরিদপুর শহরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন ফরিদপুর চিনিকলের সিবিএ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। ওই সময় তাঁকে মারধরও করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তাদের নজরে এলে বক্তব্য জানতে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন দাবি করেন, তিনি একটি ব্ল্যাকমেইল চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে ফোনে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করে সরাসরি কথা বলতে অনুরোধ জানান। পরে ব্ল্যাকমেইল চক্র ও তাঁর সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করে তারা দুই সাংবাদিক মধুখালীতে যান।
হাসান মাতুব্বর আরও বলেন, আবুল কালামের সঙ্গে তারা কথা বলার সময় হঠাৎ তাঁর স্ত্রী জানতে চান, কোথায় তারা এই ভিডিও পেয়েছেন, কে তাদের কাছে এ ভিডিও সরবরাহ করেছে। বিষয়টি গোপনীয়তার কারণে তারা এড়িয়ে যেতে চাইলে তিনি দাবি করেন তারাই ওই ব্ল্যাকমেইল চক্র। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ১০/১২ জন লোক এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের মোবাইল, ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং টানাহেঁচড়া করে মারধর শুরু করে।
এরপর রাস্তা থেকে একটি বাড়ির ভেতরে নিয়ে তাদের প্রায় ২ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখে। তাদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম পিকুল, মধুখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্নু ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে তারা ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তাদের জিম্মি করে রাখার ঘটনায় জড়িতরা হলেন আবুল কালাম আজাদ, তাঁর ভাই মাইক্রোবাস চালক রানা মোল্যা, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজাহান হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জন ব্যক্তি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ফরিদপুর চিনিকলের সিবিএ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) শৈলেন চাকমা জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com