সাগর হোসাইন: | বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর ইউপির ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ-সভাপতি ও সভাপতির জামাই অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক উজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে একজন সিনিয়র সহকারী মৌলভী শিক্ষককে বুকে চাকু ধরে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ২৯ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার ইসবপুরের দিওর গ্রামের বাসিন্দা ও অত্র মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী মৌলভী শিক্ষক মোঃ আঃ মোত্তালেব।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, বিগত ০১/০৯/১৯৮০ইং তারিখে ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসায় যোগদান করিয়া দক্ষতার সহিত অর্পিত দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছিলাম। আমার জন্ম তারিখ: ০১/০১/১৯৬০ইং। ইনডেক্স নং- ০৮১৯৮৭, ব্যাংক হিসাব নং- ৩৮৯২/৪। আমার চাকুরীর মেয়াদকাল ৬০ (ষাট) বছর পূর্ণ হতো। আমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ছিলাম। বর্তমান অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে আমাকেসহ অধীনস্থ শিক্ষক কর্মচারীগণকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করতে থাকেন। আমি তার অন্যায়ের বিরোধিতা করায় সে আমার চাকুরীর দূর্বলতা খুঁজতে থাকে।
এমতাবস্থায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের এনটিআরসিএ অধীনে যাচ্ছে মর্মে খবর প্রকাশিত হলে নিয়োগ বাণিজ্য করার লক্ষে বিভিন্নভাবে আমাকে চাকুরী থেকে ইস্তফা দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। আমি সম্মত না হলে ১০/১০/২০১৫ইং তারিখে অধ্যক্ষ সাহেব নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে আমাকে জোর পূর্বক ইস্তফা পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। আমি নিরুপাই হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে অভিযোগ দাখিল করি যাহার স্মারক নং- ১১৯১৩। মহামান্য হাইকোর্টে জোরপূর্বক ইস্তফা গ্রহণ করেছে কিনা এই মর্মে বিষয়টি সতত্যা যাচাইয়ের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকগণকে অধ্যক্ষ ও সভাপতির জামাই শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী কৃষি শিক্ষক ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা উজাউল ইসলাম বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানোর ফলে শিক্ষকগণ মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে বাধ্য হয়।
সঠিক বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অবসর ও কল্যানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। অধ্যক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের জন্য সবিনয় অনুরোধ করি। তিনি বাধ্যতামূলক ভাবে আমার নিকট হইতে তিন লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা গ্রহণ করে আমার কাজে পত্র অগ্রায়ন করেন। আমার মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমান এগারো লক্ষ টাকা ও বোনাস ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা, আমি আমার ঐ ক্ষতির প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আবেদন করছি।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মোতালেব হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,সভাপতি আব্দুল বারেক মন্টু,তার জামাই উজাউল ও অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন মিলে কয়েকজন শিক্ষকের সামনে আমাকে বুকে চাকু ধরে জোর করে ইস্তফা পত্রে সই করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়।আমি হাইকোর্টে মামলা করলে হুমকিধামকি দিয়ে মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য করে। এরপর অবসর কল্যাণের টাকা উত্তোলনের জন্য সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে কাগজপত্র নিতে গেলে শিক্ষক প্রতিনিধি উজাউলের নেতৃত্বে সভাপতি ও অধ্যক্ষ আমার কাছে থেকে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নেয়।আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান জানান,আজ আমি ছুটিতে ছিলাম,আপনার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে শুনলাম।প্রতিটি অভিযোগেরই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, এই অভিযোগের ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com