এস এম নওশের: | রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৬৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আমি যখন গ্রুপ ট্যুরে ঘুরাঘুরি শুরু করলাম সেই ২০১৮ তে তখন প্রচুর ট্রাভেল গ্রুপ দেখেছি।এখন আস্তে আস্তে সেটা কমে যাচ্ছে।কারন এই খাত কে সরকার নিজেই যেন পেট্রোনাইজ করতে চায়না।বৈধ ভাবে যদি ট্যুরিজম বিজনেসে নামতে হয় তাহলে বিরাট এক চুথা ধরিয়ে দেয়া হয় কাগজ পত্রের।এগুলা জমা না দিলে লাইসেন্স দিবেনা।এগুলা ম্যানেজ করতেও অনেক টাকা লাগে।
এক সময় অনেক ভ্রমন।পিয়াসি ছাত্র, বেকার ছেলে পেলেরা এমন কি অনেকে নিজের চাকরি ছেড়েও এই পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন।মানুষ সাড়াও দিয়েছিল। কারন একা একা ট্যুর করার চাইতে এরকম গ্রুপ ট্যুর অনেক অনেক বেশি নিরাপদ এবং ঝঞ্জাট মুক্ত।অবশ্য যারা ফাইভ স্টার লেভেলের সার্ভিস চান তাদের জন্যে এই গ্রুপ ট্যুর নয়।যারা রিজনেবল খরচে ঘুরতে ভালোবাসেন, দেশ কে দেখতে চান জানতে চান তাদের জন্যে এই ট্রাভেল গ্রুপ গুলার ট্যুর।
এখন এসব গ্রুপ গুলার অনেক গুলাই হারিয়ে গেছে কিম্বা ইন এক্টিভ হয়ে গেছে।যারাও বা টিকে আছে তারাও প্রতি সপ্তাহে এখন আর ট্যুর এরেঞ্জ করতে পারছেনা।
পার্বত্যাঞ্চলে অস্থিরতা, সেন্ট মার্টিন নিয়ে জটিলতা সুন্দরবনে ট্যুরিস্ট সীমিত করার জন্যে বন বিভাগের ফি অনেক বাড়িয়ে দেয়া ইত্যাদি কারনে এখন অই ভাবে গ্রুপ গুলা ট্যুর এরেঞ্জ করতে পারছেনা।সেই সাথে অর্থনৈতিক একটা কারন তো আছেই।কভিডের কারনে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা টা গেল সেটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি অনেক পরিবার।আমার নিজেকে খুব সৌভাগ্য বান মনে হয় বাংলাদেশের ট্যুর গ্রুপ গুলার রম রমা দিন গুলাতে আমি তাদের সাথে বিভিন্ন ট্যুরে যেয়ে গোটা দেশ দেখেছি। টক মিস্টি ঝাল সব রকমের অভিজ্ঞতার ঝোলা পুর্ন করে লিখেছি আমার ভ্রমন গল্প।
যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নিজের টাইম লাইন সহ অজস্র ফেসবুক পেজে। গ্রুপ ট্যুরের ভেতর দিয়ে অনেকের সাথে ব্যাক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল্ যা আজো অটুট আছে।মনে পড়েনা কারো সাথে কোন তিক্ততা হয়েছে আমার। সময়ের পরিক্রমায় কিন্তু নিজের চোখের সামনেই হারিয়ে যেতে দেখলাম অনেক গ্রুপ কে।অনেক এডমিন রা বেঁচে থাকার জন্যে অন্য পেশায়- চাকরি কিম্বা ব্যবসায় চলে গেছেন।কেউ কেউ বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন জীবিকার তাগিদে। আমি নিজেও কোন ভ্রমন প্রিয় ছেলে পেলে কে বলিনা শুধু এই পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়তে।এটা বড় জোর শখ হতে পারে, এক্সট্রা ইনকামের একটা সোর্স হতে পারে কিন্তু এটাকেই ফুল টাইম ক্যারিয়ার করে কোন ছেলের পক্ষেই পরিবার নিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়।অন্তত এই বাংলাদেশে।
আপনার চাকরি বা ব্যবসার পাশাপাশি এটা মন চাইলে করবেন।বাংলাদেশের ব্যান্ড আর ট্রাভেল গ্রুপ এই দুটোর ই উত্থান আর পতন আমার চোখের সামনেই দেখলাম।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com