মাসুদ রায়হান, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে মাছের ঘেরে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ব্যাপক হারে পানি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ঘের মালিক প্রশাসনের নির্দেশনা ও পরিবেশগত ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে আগাম পানি উত্তোলন করে ঘের ভরাট করছেন। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দিন-রাত পানি তুলে মাছের ঘেরে জমা করা হচ্ছে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ঘেরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করার এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ঘের মালিকদের নির্বিচারে গভীর নলকূপের পানি উত্তোলন ভবদহের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে কিছু ঘের মালিক আইন অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন। গভীর নলকূপ ব্যবহার করে ঘেরে পানি ভরাটের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা মনে করেন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু জলাবদ্ধতার ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি উত্তোলন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে পানি উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, জরিমানা আরোপ এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী ঘের মালিকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ভবদহ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ মনে করেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই জনস্বার্থে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com