মুহাম্মদ কাইসার হামিদ: | শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৭৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-মমনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব- ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে নাম্বারবিহীন সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। এছাড়াও মহাসড়কে নিষিদ্ধ নাম্বার বিহীন লেগুনা, ভটভটি, ইজি বাইক ও থ্রি হুইলার নামক যানবাহনও বেপরোয়াভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, নাম্বার বিহীন এসব গাড়ির সিংহভাগ চালকদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স। যার কারণে সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। পাশাপাশি বিভিন্ন স্টেশনে যানজটের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ ও বিভিন্ন স্টেশনে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এমন বেপরোয়া হয়েছিল এসব অবৈধ যানবাহন। বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ মাঠে কাজ করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে এসব যানবাহন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিএনজি অটোরিকশা চালক জানায়, মহাসড়কে যারা সিএনজি অটোরিকশা চালায় তাদের বেশিরভাগই ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নাম্বার বিহীন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মাধ্যমে মাসোহারা দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মহাসড়কে এসব সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন তারা। বর্তমানে পুলিশের অভিযান নেই, সেজন্য কাউকে মাসোহারা দিতে হচ্ছে না তাদের। তবে থানাতে প্রতিদিন ডিউটি করার জন্য একটি ডিএনজি দেওয়ার অযুহাতে প্রতি সিএনজি গাড়ির চালকের নিকট থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা তুলছে এমন অভিযোগ রয়েছে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নম্বর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার সুবাদে জবাবদিহীর ভয় না থাকার দরুন চালকদের মধ্যে বেশীরভাগ চালক বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির সাথে জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই। তাদের লাগাম ধরে টান না দিলে এসব অপরাধ দিন দিন বাড়তে থাকবে এমন মন্তব্য করেন অনেকেই।
চালক ও তাদের সহযোগি কর্তৃক অনেক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েও লোক লজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। ছিনতাই ও ডাকাতির কবলে পরেও পুলিশি ঝামেলা পোহানোর ভয়ে থানায় মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি করতে যায় না ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয় ভৈরব ও কুলিয়ারচরে। গণধর্ষণের অভিযোগে এক সিএনজি গাড়ি চালকসহ দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুইজন বিজ্ঞ আদালতে তাদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বরিশালের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরে। বাড়িতে ফেরার জন্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার বরিশাল থেকে ঢাকায় এসে রাত সোয়া ৯টায় সায়েদাবাদ থেকে ভৈরবের বাসে ওঠেন। ভৈরব পৌঁছান রাত ১২টায়। ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার বাস না থাকায় মেয়েটি একটি সিএনজি গাড়িতে ওঠেন। একপর্যায়ে চলন্ত সিএনজি গাড়িতে ওই ছাত্রী ঘুমিয়ে পড়েন, অন্য যাত্রীরা নেমে পড়েছেন বুঝতে পারেননি। ঘুম থেকে জেগে দেখেন ওই সিএনজি গাড়িতে কেবল চালক আর তাঁর সহযোগী। রাত পৌনে দুইটার দিকে চালক জানান, তাঁর বাড়ি সামনে, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। স্ত্রীকেও কিশোরগঞ্জে নিয়ে যেতে হবে। কথা বলে কুলিয়ারচরের কলাকুপার চম্পাকান্দা এলাকায় অটোরিকশাটি থামিয়ে মেয়েটিকে একটি বাঁশঝাড়ের কাছে নিয়ে যান চালক ও তাঁর সহযোগী। এরপর টানাটানি করে দুজন তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেন। নিরুপায় হয়ে গভীর রাতে তিনি একা একা হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন একজনের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। পর দিন ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন ওই কলেজ ছাত্রী। মামলা নং- ০৫। মামলা রুজু হওয়ার পর ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বর্তমানে এদুটো রাস্তা অবৈধ সিএনজি ও অটোরিকসা চালকরা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজু মিঞা পিপিএম, আইজি’জ (বার) এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিপ্লবের পর বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এসেছে। অবৈধ গাড়ি গুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পূনরায় চালু করা হয়েছে।
প্রতিদিনই অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হচ্ছে। এসব অবৈধ গাড়ী আটক এবং মামলার মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com