আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৩৬৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হাড়ভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবির (দুলাল) এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর পক্ষ হতে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার নদী বেষ্টিত একটি ইউনিয়ন ফজলুপুর। প্রতি বছরের নদী ভাঙ্গনের সাথে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় এ ইউনিয়নবাসীকে। এ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় বিকশিত করতে ১৯৬৩ সালে স্থাপিত হয় হাড়ভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যা এলাবাসীর জন্য আশীর্বাদ। প্রতিষ্ঠানটি অতি সুনামের সাথে পরিচালিত হবার এক পর্যায়ে সম্প্রতি ২০২২/২০২৩ সালের দিকে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ময়েজ উদ্দীন বিভিন্ন কারণে অন্যত্র বদলী হয়ে যান। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয় এ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক হুমায়ূন কবির (দুলাল)কে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হুমায়ূন কবির (দুলাল) ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। মাঝে মধ্যে আসলেও অধিকাংশ সময় সকাল ১১ টার দিকে উপস্থিত হয়ে খাতায় অগ্রীম স্বাক্ষর করে ১২ টার মধ্যে চলে যান। শ্রেণিকক্ষের চেয়ারে বসে টেবিলের উপর পা রেখে ঘুমানো তার একটি বদঅভ্যাস। শুধু তাই নয়, তার স্বেচ্ছাচারীতার কারণে প্রতিষ্ঠানে চলতি বছরে অল্প কয়েক জন শিক্ষার্থী ভর্তি থাকলেও নতুন ভর্তিতে অনিহা প্রকাশ করছেন। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিয়মিত মা সমাবেশ না করায় উল্টো শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এ প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দিনের পর দিন ধ্বস নামতে শুরু করেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা করা হয়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবির (দুলাল) সরকারি বরাদ্দ সঠিক ভাবে ব্যয় করেন না। নতুন বেঞ্চ তৈরী না করে কয়েকটা পুরাতন ভাঙ্গা বেঞ্চ নিয়ে আসেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোন মালামাল নেই। সরকারি বরাদ্দ থাকা স্বত্বেও বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন না করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। ইতোপূর্বে তার এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ক্লাশটারের দায়িত্ব প্রাপ্ত এ.টি.ই.ও শহিদুল ইসলামকে ধাক্কা দিয়ে ছিলেন। অভিযোগের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবির (দুলাল) সাময়িক বরখাস্তও হয়েছিলেন। তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ২৮-০৭-২০২৫ইং তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে আবারও গত ২৫-০৮-২০২৫ইং তারিখে এলাকাবসীর পক্ষে ৫৭ জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে ঘটনার তদন্ত পূর্বক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবির (দুলাল) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশুনার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার দাবী জানানো হয়।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবির (দুলাল) এর সাথে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগকে মিথ্যা ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।
অভিযোগের বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মন কুমার দাস এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে জানান, বিষয়টি তদন্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com