আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৩৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
এবার ভালো ফলন আর দাম পেয়েও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় গাইবান্ধার পাটচাষিরা। ফলন ও দাম ভালো হলেও পাটকল বন্ধ এবং পর্যাপ্ত পানির অভাবে মান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। তবে কৃষি বিভাগ আশা করছে, ভালো দাম পেলে কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে।
গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা বেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চাষিরা এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় সময়মতো পাট কেটে বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দেওয়ার সুবিধা হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর গাইবান্ধার উপপরিচালক মো. খোরশেদ আলম বলেন, প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ এবং বৃষ্টিপাতের কারণে পাটের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা পাট বিক্রি করে লাভবান হলে পাট চাষে তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে
কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
সদর উপজেলার কামারজানি হাটের পাইকারি পাট ব্যবসায়ী মোন্নাফ আলী জানান, বাজারে প্রচুর পাট আসতে শুরু করেছে। গত বছরের শুরুতে প্রতি মণ পাট ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ৩ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আশা করছেন কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।
কৃষকরা বলছেন, এ বছর গাইবান্ধার কৃষকরা ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও পাটকল বন্ধ এবং পানির অভাবে পাটের মান নিয়ে তাদের মনে এখনও কিছুটা সংশয় কাজ করছে।
পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার চাষিরা
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৮২২ হেক্টর জমিতে। এ থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি জমির পাট কাটা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের বৃদ্ধি খুব ভালো হয়েছে। এতে পাটের গুণগত মান ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। ফুলছড়ির কৃষক আবুল কাশেম বলেন, এ বছর পাটের গাছ লম্বা ও মোটা হয়েছে। ভালো দাম পেলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে। পাট চাষে খরচ বাড়লেও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। সুন্দরগঞ্জের হরিপুর গ্রামের পাটচাষি মোকাররম হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার খরচ থাকে। আর পাট কাটা ও ধোয়ার খরচ পড়েছে বিঘায় ৩-৪ হাজার টাকা। এ বছর পাটের দাম ভালো থাকায় আমরা লাভবান হব আশা করি।
সরকারি ও বেসরকারি পাটকলগুলো বন্ধ থাকায় সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। এ ছাড়া অনেক এলাকায় পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত জলাশয় না থাকায় পানির অভাবে পাটের আঁশ ভালো না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বাজারে ভালো দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, পাট পচানোর জন্য যদি পর্যাপ্ত পানি না মেলে তা হলে আঁশ ভালো হবে না।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com