ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ | সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ব্যাঙ্গের দোলা নামক বিলে মাছ চাষের নামে বিলের মাঝে ও দুটি সেতুর সামনে বাঁধ নির্মাণ করায় শতাধিক কৃষকের প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিলের পানি নির্ধারিত জায়গা দিয়ে বের না হওয়ায় ওই জমি গুলোতে সদ্য লাগানো আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকের দীর্ঘদিনের প্রতিবাদে কাজ না হওয়ায় এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগীরা। এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের ব্যাঙ্গের দোলা নামক বিলের পানি পার্শ্ববর্তী বিল ও নালা দিয়ে দুধকুমার নদে গিয়ে পড়ে। সেই পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার শাহজাহান আলী পুত্র জুয়েল ব্যাঙ্গের দোলা নামক বিলের মাঝ খানে বাঁধ তৈরী করে পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করে।


অপরদিকে আমজাদ হোসেনের পুত্র রেজাউল করিম উক্ত বিলের পানি প্রবাহের দুইটি সেতুর নিচে বাঁধ দিয়ে রেখেছে।এর ফলে দীর্ঘ দিন থেকে ব্যাঙ্গের দোলার পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বাঁধের উজানে প্রায় ২৫০ বিঘা জমি তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই জমির মালিকগণ রোপনকৃত ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। জমির মালিক নজির হোসেন, এনামুল,ফজলুল হক, আলম ,হাসেম, আমিনুর ও রফিকুল জানান, জমি গুলো তলিয়ে যাওয়ায় আমাদের রোপনকৃত ধানগুলো সম্পূর্ণ পঁচে যাওয়ার পথে। আমরা এর দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই। ভুক্তভোগী আরেক কৃষক নজির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,বাঁধ দেওয়ায় আমার ৪ বিঘা জমির ধানের চারা পানির নিচে। এক গোছা ধানও এবার মনে হয় টিকাতে পারবো না।
ধান না হলে পরিবার নিয়ে খাবো কি? এ ব্যাপারে মাছ চাষকরা জুয়েলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিলের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ জমি আমাদের তাই বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছি । ইতিপূর্বে পানি নিস্কাশন ও জমি সংস্কারের জন্য এলাকাবাসীদের বলেছিলাম তখন তারা গুরুত্ব দেননি। পুকুর পারের নিচ দিয়ে পাইপ বসাতে সম্মত হয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, বাঁধ নির্মাণের ঘটনায় আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গ্রামপুলিশ দিয়ে সেতু দুটির নীচের বাঁধ একাধিকবার ভেঙে দিয়েছি। পূনরায় দুই জায়গায় বাঁধ দেওয়ার ফলে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে । উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ কর্মকর্তা সারোয়ার তৌহিদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র জানান, অভিযোগ পেয়েছি এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com