মোঃ রাহিজুল ইসলাম | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪৬৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, বরাদ্দের অর্থ আটকে রাখা এবং উৎকোচ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০ শতাংশ ভ্যাট কর্তনের পর বিদ্যালয়গুলো ১২ হাজার থেকে ১৯ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পুরো অর্থ উত্তোলন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিদ্যালয়প্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২৮ থেকে ৩০টি বিদ্যালয়ে অর্থ প্রদান করা হয়। বাকি বিদ্যালয়গুলো উৎকোচ না দেওয়ায় তাদের বরাদ্দের অর্থ আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য বিদ্যালয়প্রতি ৭ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৫০০ টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উৎকোচ প্রদানকারী বিদ্যালয়গুলো চেক পেলেও প্রায় ৩০টি বিদ্যালয় এখনো বরাদ্দের অর্থ পায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট অর্থ উত্তোলনের পর তা নিজের হিসাবে জমা রাখা হয় এবং বিদ্যালয়প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করা হয়। উৎকোচ না দেওয়ায় বিদ্যালয়গুলো এখনো বরাদ্দের অর্থ পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভোটহাট ও দক্ষিণ চর-ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অর্থ প্রদান না করে তা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ৩৯ জন নৈশপ্রহরীর বেতনের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২-৩ জনকে বেতন দেওয়া হয়েছে। বাকি নৈশপ্রহরীদের বেতন উৎকোচ না দেওয়ার কারণে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, তারা নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে প্রয়োজনীয় ভাউচার জমা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে সংশোধনের নির্দেশনা অনুযায়ী তা সংশোধনও করেছেন। এরপরও তাদের হিসাবে বরাদ্দের অর্থ জমা হয়নি। তাদের দাবি, যারা উৎকোচ দিয়েছেন, তারাই কেবল অর্থ পেয়েছেন।
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারা বিদ্যালয়গুলোই বরাদ্দের অর্থ পেয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তিনি রংপুর থেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং সপ্তাহে সোম, মঙ্গল ও বুধবার অফিস করেন। এতে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে আসা শিক্ষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। স্লিপের টাকা এবং ভোটকেন্দ্র মেরামতের বরাদ্দ দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমি হোয়াটসঅ্যাপে এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com