কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: | শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্রতিষ্ঠানেরই অস্তিত্ব নেই। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবীর অভিযোগ তুলেছেন গোলাম রব্বানী নামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বহিষ্কৃত এক নেতা। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমন অপতথ্য ছড়াচ্ছেন তিনি।
গোলাম রব্বানী খুলনার কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমে তিনি নিজেকে সমন্বয়ক দাবী করেন। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের পর নিজেকে সেই সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে আসছেন। সে সময় এনসিপির ব্যানারে ইফতার মাহফিল আয়োজনে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত সেই পরিচয়েই সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহŸায়ক হারুনর রশীদ ও যুবদলের সভাপতি শরিফুল আলমের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে ওই বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবীর অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিএনপির দলীয় ভাবমূর্তি ও দুই নেতার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করতে একটি পক্ষের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের।
এনসিপি নেতা পরিচয় দেওয়া গোলাম রব্বানী তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মেঘারাইট গ্রামের কপোতাক্ষ নদের পাশে তার বালু ব্যবসার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরেজমিন সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষের তীরবর্তি বাঁধের ঢালে প্রায় একশ ফুট আয়তনের গর্ত খূঁড়ে তার তিন পাশে মাটির আইল দেওয়া রয়েছে। বর্তমানে সেই গর্তের পানিতে বাঁধের ঢালের মাটি ধসে পড়েছে। সেখানে কোন স্থাপনা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে গোলাম রব্বানী সেখানে বালুর ব্যবসার জন্য চাতাল তৈরী করতে চেয়েছিলেন। এলাকাবাসি তার এ অবৈধ কাজে বাঁধা দিলে লোকজন এনে জোর করে বাঁধের ঢালের মাটি কেটে চাতাল তৈরীর চেষ্টা করেন। বাঁধের ক্ষতির কথা চিন্তা করে স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়ে গর্তটি ভরাট করে দেয়।
জানতে চাইলে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা গোলাম রব্বানী বলেন, একজন জমি মালিকের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে আমি সেখানে ইট, বালু ও কাঠের ব্যবসা করতে চেয়েছিলাম। সেই লক্ষে মাটি কেটে চাতাল তৈরী করা অবস্থায় বিএনপির দুই নেতার ইন্ধনে এলাকার লোকজন তা ভেঙে দেয়।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারি প্রকৌশলী মো. সোলায়মান জানিয়েছেন, বাঁধের ঢালে ব্যাক্তি মালিকানার জমি নেই। সেখানে গর্ত খুঁড়ে চলমান বাঁধ মেরামত কাজে ক্ষতি হওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন বাবুল বলেন, সামনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেছে। তারা বিএনপি দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের সুনাম ও ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবীদ্ধ করতে চাইছেন। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত এক এনসিপি নেতাকে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন।
উপজেলা বিএনপির জেষ্ঠ্য নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলা বকস বলেন, গোলাম রব্বানী ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকায় নিজেকে সমন্বয়ক দাবী করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় মব সৃষ্টি করে কেরামত আলী নামে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেছিল।
গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এখনও সেই প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বালুর ব্যবসা করতে বাঁধের ঢাল কেটেছে। বাধা দেওয়ায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com