মাসুদ রায়হান, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদালিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৭ নভেম্বর সকালে মনিরামপুর থানা এলাকার মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রঞ্জন মণ্ডল (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নিহত রঞ্জনের চলাফেরা ও যাতায়াতের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। তাঁর বাড়ির এলাকার একটি বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পারে, রঞ্জন পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি।
এ তথ্যের ভিত্তিতে মিঠুন ধরকে খুঁজতে তাঁর চেম্বার ও বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে কোথাও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, মিঠুন ধর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদালিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পরে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে মিঠুন ধর ও তাঁকে পালাতে সহায়তাকারী আব্দুল হান্নান গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত রঞ্জনের সঙ্গে মিঠুন ধরের ভালো সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একসঙ্গে চলাফেরা ও ওঠাবসা করতেন। তাঁদের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন, অর্থনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার মিঠুন ধরকে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।
বৃদ্ধ রঞ্জন মণ্ডলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com