নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আজকের পৃথিবীতে জীবজগত আর সাইবার জগত আলাদা কোনো বাস্তবতা নয়—দুটো যেন একে অপরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। মানুষ এখন শুধু বাস্তব সমাজে নয়, ডিজিটাল সমাজেও বসবাস করে। আমাদের অনুভূতি, সম্পর্ক, ব্যবসা, শিক্ষা, রাজনীতি, এমনকি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চাও এখন সাইবার জগতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
একসময় মানুষ বাজারে গিয়ে খবর জানতো, এখন খবর আসে মোবাইলের স্ক্রিনে। আগে বন্ধুত্ব হতো মাঠে বা আড্ডায়, এখন তা তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মানুষের পরিচয়ও এখন দ্বৈত—একটি বাস্তব, আরেকটি ডিজিটাল। তাই জীবজগত ও সাইবার জগতের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এই মিশ্রণের ইতিবাচক দিকও আছে। প্রযুক্তি মানুষকে দ্রুত যোগাযোগ, জ্ঞান অর্জন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও মত প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মুহূর্তেই সংযোগ স্থাপন সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এর বিপরীতে রয়েছে বড় ঝুঁকিও—ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সাইবার অপরাধ, ভুয়া তথ্য, মানসিক আসক্তি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা।
এখন একজন মানুষের নিরাপত্তা শুধু তার ঘর বা শরীরের নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তার মোবাইল, ফেসবুক আইডি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এমনকি ব্যক্তিগত তথ্যও নিরাপত্তার অংশ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, জীবনের বাস্তব অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এখন সাইবার নিরাপত্তাও অপরিহার্য।
তাই বলা যায়, মানুষ এখন “জীবন্ত ডিজিটাল সত্তা”। বাস্তব ও ভার্চুয়াল—দুই জগত মিলেই আধুনিক মানবসভ্যতা গড়ে উঠছে। এই নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার এবং সচেতন ডিজিটাল নাগরিক তৈরি করাই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com