শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

যশোরে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শ্যালিকা লালশার শিকারের অভিযোগ উঠেছে 

​মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধি   |   বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যশোরে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শ্যালিকা লালশার শিকারের অভিযোগ উঠেছে 
৩৮

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এক কিশোরীকে দীর্ঘকাল ‘স্ত্রী’ হিসেবে ব্যবহার, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং সবশেষে হত্যার হুমকি দিয়ে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. মো. রাফসান জানি (৩১)। তিনি এম, এ রাজ্জাকের পুত্র, যশোর জেলার, সদর থানার, শুকুরলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।

 

​ভুক্তভোগী কিশোরী সামিয়া আফরোজের (১৭) (পিতা: মো. সাজেদুর রহমানের ৫ম তম মেয়ে, তিনি লালমনিরহাটের, হাতীবান্ধা উপজেলার, রমনীগঞ্জের বাসিন্দা, পরিবারের অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ডা. রাফসান ও তাঁর সহযোগীরা মিলে ওই কিশোরীকে তাঁর নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এবং ১০ লক্ষ টাকার প্রলোভনসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।

 

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডা. রাফসান জানি ভুক্তভোগী সামিয়ার নিকটাত্মীয় (দুলাভাই)। প্রায় তিন বছর আগে লেখাপড়া করানো এবং নিজের দুই সন্তানের দেখাশোনার কথা বলে সামিয়াকে নিজ বাড়ি যশোরে নিয়ে আসেন রাফসান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে থাকাকালীন সামিয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। বিষয়টি কাউকে বললে সামিয়ার বোন ও ভাগনে-ভাগনিদের ওষুধের মাধ্যমে ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে সামিয়া বিয়ের দাবি জানালে ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নেয়।

 

​ভুক্তভোগীর দাবি, কয়েক মাস আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাফসান জানি মণিরামপুরের মনোয়ারা ক্লিনিকের সামনে একটি বাসা ভাড়া নেন। বিষয়টি টের পেয়ে বাড়িওয়ালা তাঁদের চলে যেতে বাধ্য করলে পরবর্তীতে মণিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে গাংড়া মোড় সংলগ্ন একটি দ্বিতল ভবন ভাড়া নিয়ে সামিয়াকে নিয়ে ‘সংসার’ শুরু করেন । অভিযোগ আছে, ওই বাসায় থাকাকালীন রাফসান ঘরের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখতেন যাতে সামিয়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন। সামিয়ার জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তাঁর বর্তমান বয়স ১৭ বছর ২ মাস।

 

 

 

​সামিয়া জানান, বিসিএস উত্তীর্ণ হওয়ার পর সরকারি চাকুরিতে যোগ দেওয়ার আগেই রাফসান তাঁকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ঘটনা জানাজানি হলে ডা. রাফসান, তাঁর পিতা এম, এ রাজ্জাক, রাফসানের বর্তমান সহধর্মিণী এবং সামিয়ার ছোট চাচা মিলে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। সামিয়ার অভিযোগ, তাঁর নিজের বোন তাঁকে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মুখ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

 

সামিয়া আরও বলেন, যশোরের কয়েকজন সংবাদকর্মীকে জানালে, তাঁরা ডা. রাফসান জানির সাথে যোগাযোগ করে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমঝোতা করে উল্টো আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি স্ট্যাম্প ফেরত ও রাফসানের শাস্তি চাই। ন্যায়বিচার পাওয়ার পর আমি সুইসাইড করে পরিবারের গ্লানি মুছে দিতে চাই, তবুও আমাকে টাকা দিয়ে কেনা যাবে না।

 

 

 

​লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরী একটি অনলাইন জিডি করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল মণিরামপুর হওয়ায় তা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অবরুদ্ধের বিষয়টি আমরা অবগত নই, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডা. রাফসান জানির সাথে যোগাযোগ করার জন্য কর্মরত মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তিনি মেইল মাধ্যমে ছুটি নিয়েছেন বলে জানা যায়, তার মুঠো ফোনে যোগাযোগ হলে তিনি পারিবারিক কন্দোল, বিষয়টি গুরুত্ব না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

 

​মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএসও) ডা. ফয়েজ আহমেদ ফয়সাল জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আমরা অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কঠোর ও বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

আইনজীবীরা বলছেন, ভুক্তভোগী নাবালিকা হওয়ায় এই ঘটনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় সরাসরি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ভিডিও ব্ল্যাকমেইলে এটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

সামিয়া ১৪/০৩/২৬ নিজ বাসা হতে পালাতে সক্ষম হয়, পরে লালমনিরহাট প্রশাসকের কার্যালয়ে (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করে।

 

১৫/০৩/২৬ মণিরামপুর উপজেলা থানাধীন একটি অভিযোগ দায়ের করেন, ভিকটিমকে সাথে নিয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল ও ঘটনাবলী ইনভেস্টিগেশন করছে।

 

​বর্তমানে সামিয়া আফরুজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছে না, জীবনসংকটের ভয়ে। তার জীবন ধারনের জন্য একটি জবের প্রয়োজন বলে জানান। তাঁর জীবন রক্ষা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানবাধিকার কর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com