নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা দৈনিক নিউজ : | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার রাঙ্গাটুঙ্গি একাডেমি মাঠে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম। এতে উপস্থিত ছিলেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রংপুর বিভাগীয় কোচ আরাফাত হোসেন রণি। তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় বয়ঃভিত্তিক নারী ফুটবল দল গঠনের উদ্দেশ্যে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের সরাসরি যাচাই-বাছাই করা।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই কার্যক্রমে কোচ মাঠে থেকেই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স গভীর মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি খেলোয়াড়দের ছোট ছোট গ্রুপে (৪-৬ জন) ভাগ করে অনুশীলন করান এবং ডিফেন্স, মিডফিল্ড ও স্ট্রাইকিং পজিশনে দক্ষতা যাচাই করে কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের নাম প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
এই আয়োজনকে ঘিরে রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড প্রমীলা ফুটবল একাডেমির সাফল্যের গল্পও আবারো নতুন করে আলোচনায় আসে। একাডেমিটির পরিচালক, ক্রীড়া অনুরাগী ও সংগঠক এবং রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলামের উদ্যোগে ২০১৪ সালে এই একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। প্রান্তিক এলাকার অল্পসংখ্যক মেয়েকে নিয়ে উঁচুনিচু মাঠে শুরু হওয়া সেই পথচলা আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বর্তমানে এই একাডেমি থেকে ১৮ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলছে। তাদের মধ্যে সাগরিকা, স্বপ্না রাণী এবং সোহাগী কিসকু বাংলাদেশের জার্সি পরে অস্ট্রেলিয়ায় নারী এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করছে। এর আগে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
দৃষ্টিনন্দন নৈপুণ্য, শৈল্পিক খেলা এবং বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করার দক্ষতায় তারা ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ও প্রফেশনাল পর্যায়েও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে এসে এ ধরনের খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা দেশের নারী ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রাঙ্গাটুঙ্গি একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোই ভবিষ্যতের তারকা তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করছে।
দিনশেষে সূর্য অস্ত গেলেও, এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আগামী দিনের সূর্যের আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com