পুরানো ঢাকার আরেক টা দর্শনীয় স্থান বাড়ল।এর নাম রোজ গার্ডেন যদিও স্থানীয় ভাবে এটা হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি নামেই পরিচিত।সাদা ইতালিয়ান স্থাপত্য শৈলী তে গড়া অসাধারন প্রাসাদোপম বাড়ি হল এই রোজ গার্ডেন। টিকাটুলির কে এম দাস লেনের শেষ মাথায় এর অবস্থান।তবে বর্তমানে রাস্তা কাটা তাই যারা আসবেন অভয় দাস লেন ( সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের সামনের রাস্তা) দিয়ে ঘুরে আসবেন। ইতিহাস ও বর্ণনা — ইতিহাস যদ্দুর জানা যায় রোজ গার্ডেনের নির্মাতা ছিলেন নবাবদের ঘনিষ্ঠ ধনী হিন্দু জমিদার হৃষিকেশ দাস। পুরানো ঢাকার বানিয়ানগরে এনার নামে একটা রাস্তা আছে ঋষিকেশ দাস লেন। ১৯৩০-এর দশকের দিকে তিনি এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন। তখন কিন্তু এটার অবস্থান অনেক টা ঢাকার মুল শহরের বাইরেই বলা যায়।হয়ত শহরের কোলাহল ছেড়ে ঢাকাই দের মত তিনিও একটা বাগান বাড়ি গড়তে চেয়েছিলেন। বাড়ি টির আশ পাশে বিভিন্ম রকম গোলাপ ফুলগাছ ছিল জনশ্রুতি আছে, ঢাকার নবাব পরিবারের আয়োজিত বিলাসবহুল নাচগান ও পার্টিতে হৃষিকেশ দাসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
অভিমান থেকে তিনি নবাবদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিজের প্রাসাদ তৈরি করেন—যেখানে তিনি চা-চক্র, সাহিত্য-সভা, সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করতেন। শুরুতে এখানে একটি সুন্দর গোলাপ বাগান (Rose Garden) ছিল, সেখান থেকেই নাম হয় রোজ গার্ডেন। কিন্তু তিনি এটা রাখতে পারেন নি। বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন আর্থিক লোকসানের কারনে। পরবর্তীতে এই স্থাপনা বিক্রি হয়ে যায়, কয়েকজনের হাতে হাত বদল হয়। হুমায়ুনসাহেব নামে এক প্রভাব শালী ব্যবসায়ীর হাতে এর মালিকানা আসে।তাই স্থানীয় ভাবে এর নাম হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি হয়ে যায় ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের (পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ) জন্মস্থানও এই রোজ গার্ডেন। সেখানকার বৈঠক কক্ষেই দলটির প্রতিষ্ঠা সভা হয়েছিল। স্বাধীনতার পরেও এটি ব্যক্তিমালিকানায় ছিল, অবশেষে বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি অধিগ্রহণ করে। স্থাপত্য ও বর্ণনা রোজ গার্ডেন মূলত একতলা হলেও প্রাসাদের উচ্চতা ও গাম্ভীর্যে এটি দেখতে দোতলার মতো লাগে। দালানের সামনে প্রশস্ত বারান্দা ও খিলান আকৃতির প্রবেশদ্বার। ভেতরে সুশোভিত সিঁড়ি, বড় বড় কক্ষ, নকশাদার ছাদ ও সুন্দর সিলিং রয়েছে। মেঝেতে ইতালিয়ান মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিশাল অঙ্গন ও বাগানের মাঝে এক সময় রঙিন গোলাপের সমাহার ছিল। প্রাসাদের নকশায় ইউরোপীয় ও মুঘল স্থাপত্যের সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। বাগানের এক পাশে ফোয়ারা, আরেক পাশে ছোট পুকুর ও পাথরের মূর্তি ছিল বলে জানা যায়। — বর্তমান অবস্থা বর্তমানে রোজ সংস্কার শেষে এটিকে জাতীয় ঐতিহ্য জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণ করার জন্যে ৩০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে জন সাধারনের কাছে উন্মুক্ত করা হয়েছে।আগত দর্শনার্থীদের জন্যে প্রতি দিন সকাল দশ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা আপাতত খোলা থাকবে।বন্ধের দিন রবিবার।সোমবার দুপুর দুটা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা খোলা থাকবে।শীতকালে হয়তো আরো আগে বন্ধ হয়ে যাবে।ভ্রমন উতসাহীদের মাঝে প্রবল সাড়া ফেলেছে ইতিমধ্যেই বাড়ি টি অনেক আগে শ্যুটিং কিমবা পিকনিক স্পট হিসেবেও ভাড়া দেয়া হত। ঐতিহাসিকভাবে এটি শুধু এক ধনী জমিদারের বিলাসবহুল বাসভবন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন বাড়ি টি কে ঘিরে আবারো গোলাপ ফুলের বাগান করা হয়েছে