শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

শব্দেরশক্তি

এস এম নওশের   |   সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৫২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শব্দেরশক্তি

আসলে শব্দের একটা শক্তি আছে।সেটা তখনি শক্তিশালি যখন সেটার শাব্দিক অর্থের চাইতে বোধ তাত্বিক অর্থই বেশি প্রয়োগ হয়।যেমন মাস্তান শব্দ টা। এর অর্থ হলো যিনি আল্লাহ তথা স্রস্টা প্রেমে মাতোয়ারা।মহীশুরের সুলতান টিপুর নাম রেখেছিলেন তাঁর পিতা হায়দার আলী তাঁর সময়কার নাম করা ওলি সাধক টিপু মাস্তানের নাম।মহীশুরে টিপু মাস্তানের দরগা এখনো আছে।বর্তমানে মাস্তান শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে গুন্ডা বা দুর্বৃত্তর প্রতিশব্দ হিসেবে। আবার ধরা যাক রাজাকার শব্দ টা। এর অর্থ হল স্বেচ্ছাসেবি বা ভলান্টিয়ার।আজ এটা একটা গালি হিসেবেই আমাদের দেশে ব্যবহার হয়।

এই তো কিছু দিন আগে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক প্রভাস আমীনের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা চাকরি পাবেনা তো কি রাজাকারের নাতি পুতিদের চাকরি দেব? ব্যাস আর যায় কোথায় গোটা দেশে যেন আন্দোলন রত ছাত্রদের মধ্যে স্ফুলিং ধরিয়ে দিল। তারা ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে স্লোগান দিল তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার কে বলেছে কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার এদের শ্লোগানের প্রথম দুলাইন নিয়ে সরকার সমর্থকরা রাজনীতি শুরু করল।কেউ কেউ ছাত্রদের বলল রাজাকার।কোন কোন বুদ্ধিজীবী এদের দালাল আইনে বিচার চাইলেন।এদের কে রাজাকার আখ্যা দিয়ে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হলেন শিক্ষক লেখক জাফর ইকবাল।আবার এক অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি টক শো তে উপস্থাপিকা কে মাথা গরম করে রাজাকার বলায় সারা দেশে নিন্দিত হলেন।

পরবর্তী তে সরকার পতনের পর পালিয়ে যাবার সময় হলেন জনতার হাতে নিগৃহীত। শব্দের এমন ই শক্তি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ আর বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক অর্থ একই।কিন্তু প্রথম টা যেভাবে রক্তে আগুন ধরিয়ে দেয় দ্বিতীয় টা যেন সেভাবে উজ্জীবিত করেনা।একই ভাবে হলা যায় বাংলাদেশ জিন্দাবাদ আর বাংলাদেশ চিরজীবী হোক – কথার বেলাতেও তাই।অর্থ কিন্তু এক কিন্তু বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শব্দটি একটা দলের সমর্থকদের যেভাবে উজ্জীবিত করে বাংলাদেশ চিরজীবী হোক এটা সেভাবে করেনা। আবার জয় বাংলা শ্লোগানের কথাই ধরা যাক।এটা যদিও বিগত সরকারের দলীয় শ্লোগান। অবশ্য তাদের দলীয় শ্লোগানের বহু আগে সেই বৃটিশ বিরোধী আন্দলনের সময় থেকেই কথাটি জনমনে প্রচলিত সেখানে এই কথাটাই একজন প্রবাসী একটিভিস্ট ইউ টুবার তার বিগত সরকার এর বিরুদ্ধে এমন ভাবেই ব্যাপক ব্যবহার করেছেন গুম খুনের প্রতিশব্দ হিসেবে।

এটা গোটা দেশে এত বেশি প্রচলিত হয়ে গেল অল্প সময়ে যে এখন বহু লোকজন জয় বাংলা শব্দ টা কে যেন গুম খুনের প্রতিশব্দ হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করছে। মীর জাফর নাম টি বিশ্বাস ঘাতকের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কারন পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফর আলী খান নবাব সিরাজের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল।বাংগালি এটা মনে রেখেছে যুগে যুগে কালে কালে। ফেরাউন শব্দটি হল প্রাচীন মিশরের সম্রাটের পদবির নাম।তারা ছিল সুর্যের উপাসনাকারি।তাই তারা এই পদবি ব্যবহার শুরু করল যখন থেকে তারা মিশর শাসন শুরু করল।ফেরাউন অর্থ হল সুর্যের সন্তান। মিশরি ভাষায় এটা ফেরাউন নয় ফারাঁও।

মুস্লিম রা অত্যাচারি শাসকের প্রতিশব্দ হিসেবে এই ফেরাউন শব্দটি ব্যবহার করছে। কারন তারা হজরত মুসা আ এর বিরোধীতা করেছিল। বলা হয় ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সুর্যসন্তান।এখন যদি বলা হয় ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির ফেরাউন।তাহলে এটা মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে আগুন ধরে যাবে এবং তারা এর প্রতিবাদে আন্দলনেও নামতে পারেন ক্ষোভে এটাই হল শব্দের শক্তি

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com