মোঃ হৃদয়: | মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সেনাবাহিনীর কাছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে কাজ হস্তান্তরসহ তিনদফা দাবিতে আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি একমত বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম।
সোমবার (৪ নভেম্বর) প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানান তিনি। উপাচার্য জানান, সেনাবাহিনীর কাছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ হস্তান্তরের বিষয়ে প্রশাসন চেষ্টা করছে। তবে সেখানে প্রজেক্ট চলমান থাকায় সেটি এখনই হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরবর্তী প্রজেক্ট তারা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপাচার্য বলেন, ‘কাজটা আর্মির কাছে দিতে পারলে আমার থেকে রিলিফ আর সুখী কেউ হবে না বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থীরা যে তিনটা দাবি দিয়েছে, তাদের দাবির সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত।’
তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে পিআইসির মিটিং আছে সেখানে এবিষয়ে কথা হবে। আমরা বিষয়টি তুলবো। বর্তমান পিডিকে আজ ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছিলো, এটার বিষয়ে খোঁজ নিতে।’
পিডির বিষয়ে অনেক অভিযোগ পত্র-পত্রিকায় এসেছে, তাহলে আপনারা তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পিডির বিষয়টা আমাদের হাতে নেই। পিডিকে নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালায়, আমরা চাইলেই তাকে বাতিল করতে পারি না। আমরা যেটা করবো মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিবো, আমাদের এই পিডি কাজ করতে পারছে না। আপনারা পিডি পরিবর্তন করে দেন। তখন তারা এই পিডিকে বাতিল করে, আমাদের কাছে নামের লিস্ট চাইবে।’
ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ এবং পরিকল্পনা জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি। সেনাবাহিনীকে দেওয়ার বিষয়ে আমি তিনটা মিটিং করেছি। বুয়েটের ইঞ্জিনায়ারদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, কিভাবে আমরা এটা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে পারি। আমরা এখন যেটা করছি এজেন্ডা অনুযায়ী ডিজাইন করছি, ডিজাইন অনুযায়ী প্রজেক্ট হবে, তখন আমরা এটা সেনাবাহিনীকে দিতে পারবো। এখন একটা প্রজেক্ট চলমান, ১ অক্টোবর এটা পাস হয়েছে মাত্র। এই অবস্থায় সেনাবাহিনীতো কাজ নিবে না।’
গতকাল সোমবার তিনদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন তারা প্রায় একঘন্টা পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করেন। উপাচার্য ভবন ঘেরাও করে স্লোগানও দিয়েছেন। এসময় উপাচার্যের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব আসলেও সেটা প্রত্যাক্ষান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, আগের সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালককে আইনের আওতায় আনা এবং ৭ দিনের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে সেনাবাহিনীর দক্ষ অফিসার নিয়োগ দেওয়া, সেনাবাহিনীর হাতে ২য় ক্যাম্পাসের কাজ হস্তান্তর করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমন ঘোষণা এবং হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে (অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হল), অবিলম্বে বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পুরাতন ক্যাম্পাস নিয়ে স্বৈরাচার আমলে করা সকল অনৈতিক চুক্তি বাতিল করতে হবে।
আন্দোলনের মুখপাত্র ও ছাত্রঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা তৌসিব মাহাবুব সোহান বলেন, ‘আমাদের দাবি মন্ত্রণালয়ের কাছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নয়। আজকের মধ্যে তিন দফা দাবি মানা না হলে, মঙ্গলবার (আজ) শান্ত চত্বরে বেলা সাড়ে ১১টায় জড়ো হয়ে আবারও তাঁতিবাজার অবরোধ করা হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com