আফরিন স্বর্না | বুধবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | ১১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মর্মান্তিক অধ্যায়। সেই সময় সারা দেশের লাখ লাখ মানুষ খাবারের অভাবে মারা যায়। সরকারিভাবে ৩০ হাজার মৃত্যুর কথা বলা হলেও, গবেষকদের মতে প্রকৃত সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রাস্তায় রাস্তায় ক্ষুধার্ত মানুষের লাশ পড়েছিল। চাল সংগ্রহের জন্য মানুষ সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “সর্বশেষ যে চাল পেয়েছে, তার পেছনের জন শুনতে পেল চাল শেষ। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।” এত বড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার সময়ও মুজিব সরকারের বিলাসিতা থেমে ছিল না।
দুর্ভিক্ষের মধ্যেই তার ছেলের বিয়ে হয় মহাধুমধামে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে। মুজিবপুত্রকে সোনার মুকুট পরিয়ে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ক্ষুধার্ত মানুষের যন্ত্রণা ও হতাশা সেই সময়ে কবি রফিক আজাদের বিখ্যাত লাইনকে ধারণ করেছিল: “ভাত দে, হারামজাদা, নাহলে মানচিত্র খাবো।” মুজিব সরকার দুর্নীতি, খাদ্য সংকট, এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে জনসমর্থন হারাতে থাকে। ১৯৭৫ সালে, মুজিব সংবিধান পরিবর্তন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) চালু করেন। তিনি একটি ব্যক্তিগত বাহিনী (রক্ষী বাহিনী) গঠন করেন, যা সাধারণ সেনাবাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর বজলুল হুদা, মেজর শরিফুল হক ডালিম এবং তাদের সহযোগীরা শেখ মুজিবের সরকার উৎখাতের জন্য এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তারা রক্ষী বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে হামলা চালায় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তার হত্যার পর ঢাকায় পরিস্থিতি ছিল অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল, দোকানপাট খোলা, এবং জনজীবন যেন কোনো ঘটনাই ঘটেনি এমন একটি চিত্র তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে জনমনে তখন মুজিবের শাসনের প্রতি আর আস্থা বা আবেগ ছিল না।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com