শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

শেরপুরে ট্রাংকে মিলল ডলি আক্তারের লাশ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, দম্পতি গ্রেফতার

মেহেদী হাসান মন্ডল শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:   |   রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শেরপুরে ট্রাংকে মিলল ডলি আক্তারের লাশ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, দম্পতি গ্রেফতার
৪৬

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ট্রাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া নারী ডলি আক্তার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী পৌরসভার তাঁতিহাটি পশ্চিম নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী তিন রাস্তার মোড়ে একটি বড় ট্রাংকের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায় তোশক মোড়ানো হাত-পা বাঁধা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ডলি আক্তার (৩৫) হিসেবে।
ঘটনার পর নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম শফিক মিয়া শ্রীবরদী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই জামালপুর ইউনিটে হস্তান্তর করা হলে এসআই মো. আব্দুস সালামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং জামালপুর পিবিআই ইউনিটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্তের নেতৃত্বে একাধিক টিম ছায়াতদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ৩ এপ্রিল লাশ বহনকারী একটি নীল রঙের পিকআপ শনাক্ত করে শ্রীবরদীর ভেলুয়া ইউনিয়ন থেকে জব্দ করা হয়। এ সময় পিকআপ চালক আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে ৪ এপ্রিল ভোরে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যাত্রীবাহী বাস থেকে মূল আসামি নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ডলি আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন নাহিদ। পরে স্ত্রী রিক্তা মনির সহযোগিতায় লাশ গোপনের উদ্দেশ্যে একটি ট্রাংকের মধ্যে ভরে পিকআপে করে শ্রীবরদীতে এনে ফেলে রাখা হয়।

পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই দ্রুত টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com