| রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি ছিল জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ সংগ্রামের পরও বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজও পূর্ণতা পায়নি। গত ৫ আগস্ট জনগণ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেলেও, তার অন্ধকার ছায়া এখনো গোটা জাতিকে মেঘাচ্ছন্ন করে রেখেছে।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, বিরোধী কণ্ঠ রোধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে যে বিরামহীন আন্দোলন হয়েছে – তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। লাখো মিথ্যা মামলা, গুম-খুন, জেল-জুলুম, নির্যাতন, আয়নাঘরের বিভৎস অভিজ্ঞতা – এসবই প্রমাণ করে, স্বাধীনতার পর এদেশে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবচেয়ে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে বিএনপি পরিবার।
তবে এও সত্য, যখন বিএনপি দুর্নীতি, স্বৈরতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল, তখন অনেক রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ জনগণ পাশে দাঁড়ায়নি। বরং ধরে নেওয়া হয়েছিল বিএনপি শুধুই ক্ষমতার রাজনীতি করছে। কিন্তু বাস্তব প্রমাণিত হয়েছে – বিএনপির আন্দোলন ছিল জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। দেশের ছাত্র জনতা যখন রাজপথে নেমে এ আন্দোলনে যোগ দিল, তখনই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে।
ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল – শিগগিরই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের সরকার গঠন হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি এখন মূলত একটি অজুহাতে পরিণত হয়েছে। দেশের ৮০ শতাংশ ভোটারই এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন না। জনগণের অজ্ঞাতসারে বা অনিচ্ছুকভাবে তাদের ওপর এমন একটি পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক নয়। নির্বাচন বিলম্বিত করার মানসিকতা থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসা দরকার।
জনগণের সার্বিক নিরপত্তা ও দেশকে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে – কারণ, বর্তমানে মব সৃষ্টির মাধ্যমে অরাজকতা ও ভীতি প্রদর্শন বেড়ে গেছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধ্বস নেমেছে। বিদেশি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একারণেই সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
যতদিন না একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠন হবে, ততদিন এই অস্থিতিশীলতা ও সংকট চলতেই থাকবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল দায়িত্ব হবে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য: সংস্কার ও নীতিগত বিষয়ে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা জরুরি। বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যার মালিক জনগণ। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকবে না। এখনই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সব গণতন্ত্রকামী দলকে এক মঞ্চে আসতে হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, এবং দুর্নীতি দমন কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
গণতন্ত্র রক্ষার বিকল্প কোনো পথ নেই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে বাংলাদেশকে বর্তমান সংকট থেকে মুক্ত করতে। এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক দলগুলোর খণ্ডিত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। জনগণের দাবি একটাই – তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যাতে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
মোঃ মঈনুল আলম ছোটন
আহ্বায়ক – শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ,
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা।
সাবেক সদস্য (দপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত),
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com