শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে নবীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা

শফিকুল ইসলাম বাদল  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   |   সোমবার, ০১ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে নবীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা
৪৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টার দিকে শিবপুরের সাহারপাড় এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নবীনগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদ প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। এরপর সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে গত বছরের ১ জুন বিএনপি নেতা ও জেলা যুবদলের সদস্য মাহাবুবুর রহমানকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করে একটি দলীয় চিঠিতে স্বাক্ষর করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

এ অবস্থায় দীর্ঘ এক বছর পর শনিবার বিকেলে শিবপুরে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের সঙ্গে মাহাবুবুর রহমানের এ বিষয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনূর রশীদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার বিষয়ে মাহাবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এক বছর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান আমাকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেন। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম তার স্বাক্ষরের জন্য আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি এক বছর ধরে আমার পদটি আটকে রাখেন।”

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল করিম। তিনি বলেন, “পাঁচ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। দলীয় চিঠিতে সভাপতি স্বাক্ষর করলেও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠন না হওয়ায় আমি অনুমোদন দিইনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, “শনিবার বিকেলে মাহাবুবুর রহমান ও তার সহযোগীরা আমাকে জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গিয়ে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে।”

মামলা দায়েরের বিষয়ে নাজমুল করিম অভিযোগ করেন, রাতে থানায় গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।

তবে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী এ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি হামলার ঘটনা বাদ দিয়ে অপহরণের অভিযোগে মামলা করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া যাকে বাদী করা হয়েছে, তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন না। বাদী ছাড়া মামলা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেয়নি। আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, “মামলা নেওয়া বা না নেওয়া সম্পূর্ণ পুলিশের বিষয়।

এতে আমার কোনো হস্তক্ষেপ নেই। শিবপুর ইউনিয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক বিধি মেনেই নেওয়া হয়েছিল। দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে।”ঘটনাটি নিয়ে নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত সাংগঠনিক তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে স্থানীয় বিএনপিতে বিভক্তি আরও প্রকট হতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com