নিজস্ব প্রতিবেদক: | বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন আল মাকসুদকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। স্থানীয় নাগরিকদের দাবি তিনি সম্ভাব্য অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে জটিল একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, স্থানীয় কিছু সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছায়ায় থেকে এই অনিয়মগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলমান।
অভিযোগকারী সূত্রগুলোর দাবি, ডা. হারুনের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়মের অভিযোগ করা হয়, তা নানা মানবিক পোস্ট ও প্রচারণার আড়ালে চাপা পড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের সামনে বাস্তব চিত্রটি স্পষ্ট হয় না এবং তাঁকে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতে অভিযোগিত অনিয়ম
স্থানীয়দের অভিযোগ—
সরকারি হাসপাতালের মারামারি বা দুর্ঘটনা–সংক্রান্ত মামলায় ভুয়া বা পক্ষপাতদুষ্ট মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ আছে, যার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নেয়ার কথা বলা হয়।
তার প্রমাণ স্বরূপ একটি ভূয়া সার্টিফিকেটের সন্ধানও পাওয়া যায়।
রোগীদের অযথা প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিকে রেফার করে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি থেকে মাসিক সুবিধা বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কথাও অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
প্রেসক্রিপশনে অতিরিক্ত ওষুধ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা শিশুদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাধারণ সতর্কতা রয়েছে।
মানহীন ও অতিরিক্ত মূল্যের কৌটা কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রাইব করার অভিযোগও অনেকের।
অভিযোগ রয়েছে বাড়িতে পরিচালিত তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারে লাইসেন্সবিহীন আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রোগী দেখা হয়। কিছু অভিযোগকারী দাবি করেন, নারী রোগীদের ক্ষেত্রে আল্ট্রা করতে গেলে সময় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নেয়া হয় যা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্টাফদের দাবি ও বিতর্ক
কিছু স্বাস্থ্যকর্মীর দাবি ডা. হারুন অতীতে কিছু সময়ের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা (সাসপেনশন/ট্রান্সফার)–এর মুখোমুখি হয়েছিলেন, পরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন। তবে এসব তথ্যের সরকারি নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হলো।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন ডা. হারুনের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা গণমাধ্যমে প্রতিবেদন খুব একটা প্রকাশ হয় না, কারণ তিনি সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং কিছু প্রভাবশালী মহলকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। ফলে অনিয়মের বিষয়গুলো চাপা পড়ে যায় বলে তাদের অভিযোগ।
জনস্বার্থে দাবি
স্থানীয়রা মনে করেন-
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ।
শিশুদের অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো অভিযোগের সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।
হাসপাতাল, চেম্বার, প্রেসক্রিপশন এবং সার্টিফিকেট–সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগগুলো ওষুধ প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি।
স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং রোগীদের সুরক্ষা বজায় রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্থানীয়দের ভাষ্য “যারা ভুল চিকিৎসা বা অনিয়মের কারণে ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকিতে ফেলছে, তাদের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।”
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com