| সোমবার, ০৫ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৪৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসআই সোহেল। কিন্তু সাহস ও সততার এই যাত্রা সহজ ছিল না। স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁকে পেতে হয়েছে পদোন্নতিতে বঞ্চনা, মানসিক হয়রানি, আ.. বাংলাদেশ পুলিশে একজন সাহসী, পরোপকারী এবং ন্যায়নিষ্ঠ কর্মকর্তার নাম এসআই সোহেল। পুলিশের পোশাক পরিধান করে যিনি নিজেকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন, তিনি কখনো অন্যায় আদেশের সামনে মাথা নত করেননি। তাঁর চাকরি জীবনের প্রতিটি ধাপেই ছিল সততা, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান, এবং দুর্বৃত্ত শক্তির বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রতিবাদ। জনমানুষের প্রিয় এই পুলিশ কর্মকর্তা শুধু আইন রক্ষার দায়িত্ব পালন করেননি, বরং বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার প্রমাণ করেছেন—”পুলিশ জনগণের বন্ধু” শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং এটি বাস্তবতায় রূপ দেওয়া যায়।
এসআই সোহেল ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন বিনয়ী, বন্ধুবৎসল ও সাহায্যপ্রবণ। ছোট-বড় সবাই তাঁর কাছে পেয়েছেন নির্ভরতার আশ্বাস। তাঁর সহকর্মীরা যেমন শ্রদ্ধা করেন, তেমনি সাধারণ মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন নিজের আপনজনের মতো। কিন্তু এই জনপ্রিয়তা আর সেবা-নিষ্ঠা অনেক ক্ষমতাধর মহলের কাছে হয়ে উঠেছিল ‘অপরাধ’। স্বৈরাচারের রোষানলে সৎ অফিসার: বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গোপনে-প্রকাশ্যে মানুষকে সহায়তা করার অভিযোগ তুলে কিছু প্রভাবশালী প্রশাসনিক কর্মকর্তার রোষানলে পড়েন এসআই সোহেল। বিশেষ করে ডিসি বিপ্লব, ডিসি হারুন এবং ঢাকা জেলার এসপি মারুফ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর উপর শুরু হয় একের পর এক বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে বঞ্চনা, এবং মানসিক চাপের যন্ত্রণা।
তিনবার পদোন্নতির পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ‘অকৃতকার্য’ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়। এক নজরে তাঁর “শাস্তিমূলক” বদলিগুলোঃ ১. এসপিবিএন: ২০১৪ – ২০১৮ ২. ডিএমপি: ২০১৮ (১১ মাস) ৩. ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ: ২০১৯ (৮ মাস) ৪. ঢাকা জেলা: ২০২০ (৯ মাস) ৫. র্যাব-২: ২০২১ – ২০২২ ৬. শরীয়তপুর জেলা: ২০২৩ – ২০২৪ জনগণের ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছা: জুলাই ২০২৩ সালে স্বৈরাচারবিরোধী এক অভ্যুত্থানে তার সাহসিক ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তিনি ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিজের জীবন বাজি রেখে সহায়তা করেন। এ কারণে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর ও গোসারহাট থানা এলাকার মানুষ তাঁকে “নয়নের মণি” হিসেবে বরণ করেন। ৫ আগস্ট, হাজারো মানুষ সখিপুর থানায় এসে ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য স্বীকৃতি: দীর্ঘদিনের অবহেলার পর অবশেষে তাঁর কাজের স্বীকৃতি মেলে। ডিসেম্বরে এবং জানুয়ারিতে তাঁকে শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
তাঁর কর্মকাণ্ড শুধু একটি জেলার নয়, পুরো বাংলাদেশ পুলিশের গর্বের বিষয়। এসআই সোহেল-এর মতো কর্মকর্তাই দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন: বাংলাদেশ পুলিশে এসআই সোহেল-এর মতো সাহসী, সৎ এবং জনবান্ধব অফিসারদের উপস্থিতি আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। যাঁরা সত্যের পক্ষে কথা বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তাঁদের রক্ষা করা শুধু দায়িত্ব নয়, বরং জাতীয় প্রয়োজন। শেষ কথা: এসআই সোহেল-এর জীবনের গল্প কেবল একটি ব্যক্তির নয়, এটি হলো ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষের গল্প। রাষ্ট্র যদি এমন অফিসারদের পাশে না দাঁড়ায়, তবে ন্যায়ের পক্ষে লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এখন সময় এসেছে, এসআই সোহেল-এর মতো কর্মকর্তাদের উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করার।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com