লেখায়: ফারিহা হোসেন | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পহেলা বৈশাখ আমার কাছে অন্য রকম এক অনুভূতি—একটা টান, যা আমাকে বারবার ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠতেই আম্মুর কণ্ঠে শুনতাম—“শুভ নববর্ষ”। এই দিনটিতে আমাদের ঘরের শুরু হতো গরম ভাত আর মাছ ভাজি দিয়ে। আম্মু সবসময় বোঝাতে চাইতেন, একজন বাঙালি হিসেবে এই দিনটি আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলতেন, আজ থেকে বৈশাখ মাস শুরু, নতুন বছর—১৪২০ বঙ্গাব্দের আগমন।
হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও আম্মু নিজের হাতে মেশিন দিয়ে আমার জন্য সাদা রঙের পোশাক তৈরি করতেন। সেই পোশাক পরে বিকেলে আম্মুর সাথে মেলায় যাওয়া—সেটা ছিল অন্যরকম আনন্দ। এটা গ্রামের মেলা নয়, শহরের মেলা হলেও সেই সময়ের আনন্দ ছিল একেবারেই আলাদা। আম্মু প্রায় সবার জন্য ছোটখাটো উপহার কিনতেন। একবার আমি বায়না করেছিলাম রঙ-তুলি দিয়ে মুখে “পহেলা বৈশাখ” লিখে নিতে—ঠিক যেমনটা চেয়েছিলাম, মেলায় গিয়ে আঁকিয়ে নিয়েছিলাম। আমি খুব বেশি বায়না করতাম না, তবে শিল্পকর্মের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল সবসময়ই।
ছোট্ট সেই স্মৃতিগুলো আজও হৃদয়ে অমলিন। আজ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ আসতে চলেছে, কিন্তু আম্মু এখন পাশে নেই—বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার কারণে আমি অন্য জেলায় থাকি। আজ রাত ৮টা ২৯ মিনিটে আম্মুর সাথে ফোনে কথা হলো। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার ভয়েস মেসেজ পাঠালেন—“শুভ নববর্ষ”। তিনি বললেন, নতুন বছরটা যেন সুন্দর ও গুছানো হয়। নববর্ষ উদযাপন করতে যেতে বললেন, তবে নিজেকে পরিপাটি রাখার কথাও মনে করিয়ে দিলেন—ঠিক যেভাবে তিনি একসময় আমাকে সাজিয়ে মেলায় নিয়ে যেতেন।
আজ তাই একটু দুঃখ নিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় জানাচ্ছি, আর আশা, ভালোবাসা, স্নেহ ও লক্ষ্য নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করছি। পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐতিহ্য—আমাদের পরিচয়, আমাদের হৃদস্পন্দন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com