নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি, ছিনতাই রাহাজানি,চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধীচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ যেমন আতংকিত, তেমনি ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়।

সর্বশেষ এক নৃশংস ঘটনায় দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করতে গিয়ে এক গরু ব্যবসায়ীর হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল রামদার কোপে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, যা পুরো এলাকায় চরম আতংক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ বেলাল (৩৫), পিতা মৃত এনু মিয়া, সাং খন্দকিয়া, ৯নং ওয়ার্ড, ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়ন, হাটহাজারী। তার স্ত্রী খুরশিদা আক্তার থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রতি বছরের মতো এবছরও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু ক্রয় করে মোটা তাজাকরণ শেষে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য তার স্বামীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে মোঃ বেলাল উক্ত টাকা সঙ্গে নিয়ে হাটহাজারী বাজারে গরু কিনতে রওনা হন। পথে বালুচড়া তুফানী রোডের আগুন ফকিরের মাজার এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকে।
পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক হাটহাজারীর বুলিয়া পাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় নির্মমভাবে হামলা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় আসামি হাতে থাকা রামদা দিয়ে বেলালের উপর প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে কোপ মারলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এতেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা। প্রথম আসামি তার মুখমণ্ডলে স্প্রে ছিটিয়ে তাকে অচেতন করে ফেলে এবং অন্যান্য আসামিরা তাকে মাটিতে ফেলে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় দ্বিতীয় আসামি তার প্যান্টের পকেটে থাকা গরু কেনার জন্য রাখা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তৃতীয় আসামি তার ব্যবহৃত আনুমানিক ১৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
হামলার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী অজ্ঞান হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে রাস্তার পাশে একটি বিলের মধ্যে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোঃ হুমায়ুন ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। আহতের স্বজনরা জানান, তার হাতে গুরুতর আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে তার স্ত্রী খুরশিদা আক্তারসহ আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে ছুটে যান এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জেনে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার, ছিনতাইকৃত টাকা ও মোবাইল উদ্ধার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখিত আসামিরা হলেন মোঃ কফিল উদ্দিন (৪০), মোঃ জাহেদ (৩৬), ল্যাংড়া মোরশেদ (৩৭) ও মোঃ নূর উদ্দিনসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন। এলাকাবাসীর দাবি, এরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাটহাজারী এলাকায় দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। প্রকাশ্যে ছিনতাই,ভাকাতি, রাহাজানি, মারামারি ,মাদক ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা এখন নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com