এ.কে.এম.মোহাম্মদ আলী | বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
হোসেনপুর থেকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চর বিশ্বনাথপুর ও পৌর এলাকার দ্বীপেশ্বর পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রনক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে পৌর সদর বাজার ৷ এ এলাকার সবচেয়ে বড় বাজার হোসেনপুর উপজেলা সদর বাজার। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে বাজারজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে ব্যাবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্বৃত্তরা বাংলালিংক সার্ভিস পয়েন্ট,সোহাগ মিয়া ও বিপ্লব নিয়া,রবি কমিশনারের হোটেল,ফার্মেসি,ফুটপাতের দোকানসহ অন্তত ২০টি দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঘটনাস্থলে প্রতিবাদ জানাতে গেলে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। হোসেনপুর থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে রাতেই কিশোরগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী এসে পুলিশকে সহায়তা করলে দুরবৃত্তরা পালিয়ে গেলে রাতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজারের শত-শত ব্যবসায়ী জামে মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে সকল দোকান বন্ধ রেখে সদর বাজারের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে রিক্ষোভ শুরু করতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে এবং দোকান খোলার আহবান জানিয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কাজী নাহিদ ইভা,হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তফাজ্জল হোসেন ও হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন,ওসি (তদন্ত) সহ উর্ধতন কর্মকর্তরা ব্যাবসায়ীদের দোকান খুলতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ব্যাবসায়ীরা নিরাপত্তার গ্যারান্টি না গেলে প্রতিষ্টান খুলবে না বলে জানিয়ে দেন। ব্যাবসায়ীরা জানান,প্রশাসন নিরাপত্তা দিলে তারা দোকান খুলবে। উল্লেখ্য কয়েক দিন পর পর আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র ঠুনকো যে কোন বিষয় নিয়ে বাজারে মারামারি করে,এত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় হাট বাজার করছেন। এদিকে হোসেনপুর পাইলট হাইস্কুল এর বিষয় নিয়েও সপ্তাহের প্রতিদিনই কোন না কোন ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ও ইট পাটকেল নিয়ে বাজারে মারানারি শুরু করে দেয় বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণরা ৷ তরুনদের এসব কাজে ব্যাবহার করে আসছে একটি বিশেষ প্রভাবশালী মহল।
বর্তমানে এই উঠতি বয়সের অস্থির প্রজন্মের তরুণরা সামান্য কিছু বিষয় নিয়েই দাংঘায় জরিয়ে যায়। এতে করে ৪ থানার মিলনস্থল হোসেনপুরের মানুষ,ব্যাবসায়ীয়া চরম আতংক নিয়ে দিন যাপন করছে। হোসেনপুরের সর্বস্থরের মানুষ এখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প করার দাবী জানিয়েছে। অন্যথায় তারা সর্বাত্বক ধর্মঘটের ডাক দিবেন বলে জানিয়েছেন। হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, হোসেনপুরের মতো এত ধারাবাহিক দাঙ্গা হাংঘামা কোথাও তিনি দেখেননি। এদিকে ব্যাবসায়ীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরে করতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পৌর সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে । দোকান পাট বন্ধ রয়েছে ৷ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত(ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভার নেতৃত্বে প্রশাসন ও ব্যাবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলমান রয়েছে ৷
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com