আবু মোছা রাশিয়া প্রতিনিধি। | শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | ১১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাশিয়াতে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই পেশাগত দক্ষতা আর সাহস নিয়ে পা ফেলেছেন বিদেশের মাটিতে, আর তাঁদের মধ্যে একজন হলেন বিশিষ্ট টেক্সটাইল ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ। মাধবপুর উপজেলা, বহরা ইউনিয়ন, তালিব পুর গ্রামের কৃতি সন্তান১৯৯২ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় রাশিয়ায় আসেন আব্দুল আহাদ, লেখাপড়া করেন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির উপর। লেখাপড়া শেষে তিনি আর ফিরে তাকাননি। শুরু করেন নিজস্ব ব্যবসা চায়না থেকে কাপড় আমদানি করে রাশিয়ায় পাইকারি বিক্রি। আজ, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর তিনি রাশিয়ার একজন সফল ও প্রভাবশালী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। আব্দুল আহাদ বলেন আমি চাই নতুন যারা টেক্সটাইল ব্যবসায় আসতে চায়, তাদের পাশে দাঁড়াতে। প্রয়োজনে পরামর্শ, গাইডলাইন সব রকম সহযোগিতা করবো। তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপসও দিয়েছেন। যেমন— কম খরচে ভালো মানের পণ্য আমদানি,রাশিয়ার আইন-কানুন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা।
আব্দুল আহাদ আরো বলেন বর্তমানে আগের চেয়ে ব্যবসার সুযোগ অনেক বেশি রাশিয়াতে স্থানীয় উৎপাদনের চেয়ে আমদানিকৃত পণ্যের চাহিদা বেশি। আব্দুল আহাদ মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার যদি রাশিয়ার সাথে টেক্সটাইল চুক্তি করে, তাহলে দেশের অর্থনীতিও উন্নত হবে। তাঁর ভাষায় চায়না থেকে কাপড় আনলে ট্যাক্স কম, আর বাংলাদেশ থেকে আনতে গেলে ট্যাক্স অনেক বেশি। যদি এই ট্যাক্স কমানো যায়, তাহলে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের কাপড় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।রাশিয়ার বাজারে টেক্সটাইল পণ্যের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে চীন এ খাতে প্রাধান্য রাখলেও, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও কাপড়ের মান ও নকশা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বেশি প্রশংসিত।
তবে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ এখনো সীমিত, যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো উচ্চ আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য-ট্যারিফ বাধা।বাংলাদেশের তৈরি কাপড়ের মান, কারিগরি দক্ষতা এবং খরচ-সাশ্রয়ী উৎপাদন পদ্ধতি রাশিয়ার বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দিতে পারে।তবে এই সুযোগ বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা, কর-নীতিতে নমনীয়তা, এবং দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারকরণ। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে হলে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে ,আর সেটি সম্ভব শুধু সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। আব্দুল আহাদের মতো সফল প্রবাসী ব্যবসায়ীরা শুধু নিজেরাই এগিয়ে যাননি, তাঁরা বাংলাদেশের সম্ভাবনাকেও তুলে ধরেছেন বৈশ্বিক মঞ্চে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক সেটাই কাম্য।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com