নাজমুল হাসান | সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | ৭২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কুমিল্লা র্যাব -১১ এর কোম্পানী কমান্ডারের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অবস্থান সনাক্ত করে রবিবার (২৩ মার্চ) বেলা ১টায় ধর্ষণ মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলামের সহযোগীতায় অভিযান চালিয়ে এলাহাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামের ইকবাল হোসেনের পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ধর্ষক জয়নাল আবেদীন (৪৫) নামে এক আসামীকে আটক করা হয়। ধর্ষক মো. জয়নাল আবেদীন উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়ন সুলতানপুর গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। ধর্ষক জয়নাল আবেদীন পেশায় একজন অটো রিকশা চালক ও ৫ সন্তানের জনক। অপর দিকে ধর্ষিতার বাবা অসহায় দিনমজুর এবং মা ভিক্ষুক।
ধর্ষণের বিষয়টি সম্পর্কে জানাজায়, গত ১১ জানুয়ারী সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের পুকুর ঘাটে হাত-মুখ ধুয়ে শিশু(১০)টি ঘরে ফেরার পথে, পাশের ঘরে চাচা মো. জয়নাল আবেদীন(৪৫) মুখ চেপে তাকে পুকুর পাড়ের ঝোপের কাছে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি ঘরে আসার পর তার মা’ পরনের প্যান্ট রক্তে ভেজা দেখে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার বর্ননা দেয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় দ্রুত তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেড় মাস চিকিৎসা দেয়ার পর ওখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
সেখানে প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়িতে আসলেও এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে উঠেনি। এরই মধ্যে মামলার বাদী মো. জালাল হোসেনকে ধর্ষণ মামলা টি তুলে নিতে গ্রামের মাতব্বর জাহাঙ্গীর, রফিক, কবির, নাছির, মাহবুবের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল হুমকি দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলার আসামি ৩ মাসেও অভিযুক্ত ধর্ষক আটক না হাওয়ায় একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে কুমিল্লা র্যাব-১১ ও ধর্ষণ মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলামের সহযোগীতায় অভিযান পরিচালনা করে এলাহাবাদ ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামের ইকবাল হোসেনের পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ধর্ষক জয়নাল আবেদীনকে আটক করে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, ভিকটিম ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন এবং ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দী রেকর্ড সম্পন্ন হলেও আসামী পলাতক ছিল। পলাতক থাকার কারণে তাকে আটক করতে একটু সময় লেগেছে। আমাদের দেবিদ্বার থানা পুলিশ ও কুমিল্লার র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে একটি স্থানীয় পোল্ট্রি ফার্ম থেকে তাকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে জয়নাল আবেদীন আত্মগোপনে থেকে ওই গ্রামের পোল্ট্রিফার্মে কর্মরত ছিল।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com