এস এম নওশের: | মঙ্গলবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ড. ইউনুসের সরকার পরিষদ কোন সাধারন অন্তর্বর্তি কালিন সরকার নয়। এমন কি বিগত এক এগারোর সরকারের মত ও এই সরকার নয়এই সরকারের দায়িত্ব কেবল একটা নির্বাচন করেই ক্ষমতা হস্তান্তর নয়।এই সরকার এসেছে হাজারো ছাত্র জনতার রক্তের স্রোতে।এই সরকারকে বিগত সরকার পদত্যাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বসিয়ে দিয়ে যায়নি।
সাংবিধানিক দৃস্টি কোন থেকে বিচার করলে আসলে এর বৈধতা থাকেনা।কিন্তু ইংরেজীতে Doctrine of necessity বলে একটা কথা আছে। সেই হিসেবেই বর্তমান সরকারের বৈধতা। এই সরকার হল ছাত্র জনতার সম্মিলিত সমর্থিত সরকার যাদের প্রতি জনগনের প্রত্যাশা ছিল পর্বত প্রমান।জনগন তাদের তিন মাস সময় বেধে দেয়নি যে একটা নির্বাচন করে দিয়েই তারা বিদায় নেবে।জনগন চায় আমুল পরিবর্তন। চায় ঘুষ দুর্নীতি দলীয়করন আত্মীয় করন গোপালী করনের চির অবসান।তাই এই সরকার কে কয়েক বছর সময় দিতেও তাঁরা প্রস্তুত।
ড ইউনুস নিসেন্দেহে ভাল মানুষ,দেশ প্রেমিক স্বাপ্নিক এবং ডায়নামিক।এতে কোন সন্দেহ নাই।কিন্তু তার উপদেস্টা পরিষদে যারা আছেন তাঁরা নিসন্দেহে তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অবশ্যই যোগ্যতার সাক্ষর রেখেছেন।এদের ভেতরে কয়েক জন আবার বিগত এক এগারোর সেনা সমর্থিত মইন উদ্দিন ফখরুদ্দিন সরকারেও ছিলেন যা কিনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।এছাড়া বিগত দুমাসে তাদের কাজের ধীর গতি,দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না দেখা এবং নিজেদের ভেতর পারস্পরিক সমন্বয়হীনতার কারনে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি একজন সহকারি কমিশনারের বিতর্কিত ফেসবুক স্টাটাস জনগনের সামনে এসেছে।তাতে বোঝা যাচ্ছে জন প্রশাসনে ড ইউনুস সরকারের কতৃত্ব পুরোপুরি প্রতিসঠিত হয়নি
আমি আমার এর আগের এক লেখাতেও বলেছিলাম এখনো বলছি এই সরকারে হিকমত ওয়ালা লোক বেশি আর হিম্মত ওয়ালা লোক কম।ফলে সরকারে যেন ঠিক ব্যালেন্স হচ্ছেনা। ড ইউনুসের উচিত তাঁর প্রত্যেক উপদেস্টার বিগত দুইমাসের কাজের মুল্যায়ন করা এবং সেই ভিত্তিতে তাদের এই সরকারে রাখা না রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। বিগত ইউনুস সাহেব নিসন্দেহে ভদ্র, সজ্জন এবং অনুকম্পাপ্রিয়।উনার এই গুন যেন রাস্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যেন কিছুটা হলেও সমস্যা তৈরি করছে বলে আমি একজন নাগরিক হিসেবে মনে করি। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে চরিত্র কে কোমলে কঠোরে মেশানো এক ব্যাক্তিত্বে পরিনত করতে হয়।
সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন ড মাহমুদুর রহমান।পেশায় বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার হলেও উনার মেধা প্রজ্ঞা দেশপ্রেম অতুলনীয়।দেশে ফেরার পর বিগত সরকারের করা ভুয়া মামলায় উনাকে জেলে যেতে হয়।অথচ একই মামলার আরেকজন আসামি শফিক রেহমান উনাকে জেলে যেতে হয়নি।ফলে ড ইউনুসের আইন উপদেস্টাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।অথচ তিনি বিগত ছাত্র গন আন্দোলনে অত্যন্ত শক্তিশালী ভুমিকা রেখে সারা দেশে বিপুল প্রশংসিত হয়েছিলেন।
এখনো সময় আছে ড ইউনুসের উচিত উনার সরকার পরিষদ কে ঢেলে সাজানো।হিকমত এবং হিম্মত ওয়ালাদের সমন্বয়ে একটা সরকার গঠন করে দেশ চালানো।অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন উনার সরকার যেহেতু একটা বিপ্লবের ভেতর দিয়ে আসা সরকার উনার উচিত অবিলম্বে বিগত সরকারের চাটুকারিতা করে রাস্ট্রপতির পদ পাওয়া শাহাবুদ্দিন চুপ্পু কে সরিয়ে নিজে প্রেসিডেন্ট হয়ে উনার ক্ষমতা কে নিরংকুশ করা।কারন এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেয়ার এবং বিপুল দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আছে।জনতা এর বিচার চায়।
ড মাহমুদুর রহমানের মত সাহসি লোক কে সরকারের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।যাতে তাঁর মেধা যোগ্যতা প্রজ্ঞা দেশ পুনর্গঠনের কাজে লাগতে পারে।সেই সাথে শফিক রেহমান,ড সলিমুল্লাহ খান এবং লে জেনারেল ফজলুর রহমান কেও এই সরকারে নেয়া উচিত।কারন উনারা যেমন জ্ঞ্যানী তেমনি সাহসি। জ্ঞ্যান প্রজ্ঞা এবং সাহসের সমন্বয়ে এই সরকার কে দেশ চালাতে হবে আগামীর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com