এস এম নওশের: | বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আমার এক ভারতিয় বন্ধু। কাজ করছে কলকাতার আকাশ বানীতে।একদিন ওকে জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা কমল দাশ গুপ্তর নাম শুনেছ??বলল না তো।
সেকী এত বড় গুনী শিল্পী কে এত তাড়াতাড়ি তোমরা ভুলে গেলে??আচ্ছা ফিরোজা বেগমের নাম কি শুনেছ??
হ্যা হ্যা উনার নাম শুনেছি বটে।নজরুল গীতি করতেন।বললাম এনার স্বামী হলেন কমলদাশ গুপ্ত।কমলদাশ গুপ্তর মত ক্ষনজন্মা শিল্পি সুরকার সংগীত পরিচালক খুব বিরল।সেই আমলে এইচ এম ভি তে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বড় দার হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন।কাজ করেছেন টানা তিরিশ বছর।কবি নজরুলের অজস্র গানের সুরকার তিনি।কবি গান লিখে পরম নিশ্চিন্তে দিয়ে দিতেন কমলদাশ গুপ্ত কে তা সুরারোপ করতে।দুজনের মধ্যে বোঝা পড়া টা ছিল দারুন চমৎকার।কমলদাশ গুপ্ত একদিকে যেমন তালিম নিয়েছেন উস্তাদ জমির উদদিন খা সাহেবের নিকট অন্য দিকে নিয়েছেন সে সময়কার স্রেষ্ঠ ক্ল্যাসিক্যাল সংগিত গুরু কৃষনচন্দ্র দের কাছেও।যিনি কানা কেস্ট নামে পরিচিত ছিলেন। ইনি আবার কিংবদন্তির গায়ক মান্না দে র কাকা হোন।
এই কমল দাশ গুপ্ত শুধু যে বাংলাতেই গান করেছেন তা নয়।হিন্দী মারাঠি উড়িয়া তামিল ইত্যাদি ভাষাতে ও গান করেছেন।সেই সময়ে তিনি আট হাজারের অ অধিক গান করেছেন।সেই সাথে সুর অ সংগীত পরিচালনা।অনেক গুলো ইন্সট্রুমেন্ট তিনি বাজাতে জানতেন।ভারতের রণ সংগীত কদম কদম বাড়ায়ে যা এর সুরকার ও তিনি। পঞ্চাশের দশকে তাঁর প্রিয় ছাত্রী ফিরোজা বেগম কে বিয়ে করে ষাটের দশকে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।এখানেও সঙ্গীত নিয়ে কাজ করলেও পান নি তেমন খ্যাতি সম্মান।সংসার চালাতে উনাকে অন্য জীবিকা বেছে নিতে হয়েছিল। সেটার বর্ননা পাবেন উনার ছোট ছেলের আত্মজীবনি মুলক বই পথিকার এ।
আজকের প্রজন্ম তাকে ভুলে গেলেও তার দুই ছেলে হামিন ও শাফিন আহমেদ কে কিন্তু সবাই চেনে এই দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের গায়ক অ গীটারিস্ট হিসেবে। শাফিন আহমেদ কিছু কাল আগে মারা গেছেন আমেরিকায়।যাকে তার বাবার কবরেই শায়িত করা হয়েছে বনানী কবরস্তানে এই মহান গুনী শিল্পীকে বিনম্র শ্রদ্ধা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com