আব্দুস সালাম মোল্লা: | বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৬৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জড়িত। কিন্তু ন্যাক্কারজনক হলেও সত্য যে আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের সাথে রাজপথে ভুমিকা রাখা এই সংগঠনটি নব্বইয়ের দশক থেকে যেন ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য হয়ে উঠে ফরিদপুরেও
শুধু প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের ওপরে চড়াও হওয়াই নয়, তারা জড়িয়ে পড়ে খুন-জখম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ, সরকারি জমি দখল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদককারবার, তদবির বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ অনৈতিক ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
২০০৯ সালের পর এসব পরিচালিত হয়ে এসেছে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক শক্তিকে ব্যবহার করেই। এই সময়ে ফরিদপুরে ছাত্রলীগের রাজনীতিকে কলুষিত ও ধ্বংস করার জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চেয়েও বেশি দায়ি করা হয় সাবেক এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীকে।
ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ, করোনা ও রোজায় ছাত্রলীগের সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এই ছাত্র সংগঠনের সকল অর্জন ম্লান করে দিয়েছে। শুধু কলেজ ক্যাম্পাসই নয়, আওয়ামী লীগের হেলমেট বাহিনী হয়ে তারা টেন্ডারবাজি, জমি দখল, মাদককারবার ও তকবির বাণিজ্যসহ নানা কারবারে জড়িয়ে পড়ে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে ধারালো অস্ত্রের পাশাপাশি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি চালানোর ভিডিও ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে ফরিদপুরের ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র রাজেন্দ্র কলেজে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকা ছাত্রলীগের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের ওপর হামলা চালিয়ে কলেজে আধিপত্য ও রুকসুর প্রতিনিধিত্ব লাভের পরে একসময় তারা নিজদলের প্রতিপক্ষের ওপরেও হামলে পড়ে। সেসময় রাজেন্দ্র কলেজ ছাড়াও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তারা সন্ত্রাসের ঘাঁটি গেড়েছিল। বহিরাগত ছাত্রদের হাতে স্থানীয়রাও জিম্মি হয়ে পড়ে। ফরিদপুরের লাট ভাই খ্যাত এক আওয়ামী লীগ নেতার প্রশ্রয়ে চলত এসব ঘটনা। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এলে ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনের এই চিত্রও বদলে যায়। পতন হয় লাট ভাই ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের।
২০০৩ সালে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে সভাপতি হন মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক হন সত্যজিৎ মুখার্জি। ছাত্রলীগের এই অংশ ছিল তৎকালীন এমপি ও আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরোধী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান লাবলুপন্থী। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে তারা আওয়ামী লীগের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
মাত্র এক বছর না যেতেই ২০১০ সালের ১০ মার্চ ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন মোশাররফপন্থীদের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডে টেন্ডারবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। এর পরপরই মিছিলে হামলা চালিয়ে মনিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষ মোশাররফপন্থীরা। এ সময় মোশাররফপন্থী এক সাবেক ছাত্রলীগের নেতার নেতৃত্বে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপক আব্দুল হালিমকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়।
২০১৫ সালে একযুগ পরে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে সভাপতি হন নিশান মাহমুদ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক হন সাইফুল ইসলাম জীবন। ২০২০ সালে কথিত শুদ্ধি অভিযানে খন্দকার মোশাররফের পতনের আগ পর্যন্ত তারাই ছিল ছাত্রলীগের পদে। মূলত এই সময় থেকেই যুবলীগের সাথে মিশে দানবীয় হয়ে উঠে ছাত্রলীগ।
ফরিদপুরে ছাত্রলীগ এ সময় আবির্ভূত হয় ভয়ংকর হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনীর ভুমিকায়। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনকে পর পুলিশের সহযোগিতায় হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে একক আধিপত্য কায়েম করে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com