আলমগীর হোসেন: | মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৭৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নীলফামারীর ডোমার বসুনিয়া হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদ করায় ছাগল ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদার স্বপনসহ তার অজ্ঞাতনামা শতাধীক লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বসুনিয়া হাটের ছাগল হাটিতে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। এঘটনায় আহত হাসান ও মোকলেছ নামে ২জন ছাগল ব্যবসায়ী ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি আছেন।
ডোমার উপজেলায় বেশ কয়েকটি গরু ছাগলের হাট থাকলেও বসুনিয়ার হাটটি সবচেয়ে বড় হাট। এই হাটটি সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার বসে। আমবাড়ী ,বোড়াগাড়ী,মির্জাগঞ্জ,বসুনিয়া হাটগুলোতে সরকার নির্ধারিত টোল আদায়ের নেই কোন চাট। এতে করে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে জিম্মি হাট ইজারাদারের কাছে। নিজেদের ইচ্ছা মতো আদায় করেন টোল। গত ৫আগস্টের আগে গরু রশিদ বাবদ ৬০০ টাকা,চঁাদা বাবদ ২০০টাকা, ছাগল রশিদ বাবদ ২৫০টাকা, চাঁদা ৩০টাকা করে আদায় করতো ইজারাদার। গত ৫আগস্টের পর ব্যবসায়ীদের দাবীর মুখে গরু প্রতি ১০০টাকা কমিয়ে ৭০০টাকা ও ছাগল ১০০টাকা কমিয়ে ১৮০টাকা আদায় করা হয়েছিলো। কিন্তু গত ৩হাট থেকে গরু প্রতি ১০০টাকা ও ছাগল প্রতি ৫০টাকা বাড়িয়ে দেয় হাট ইজারাদার। হাটে টোল আদায়ের কোন চাঁট না থাকায় ইজারাদার এই সিন্ডিকেট করছেন বলে দাবী ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন বলে অনেকের দাবী। দ্রুত হাটে সরকার নির্ধারিত টোল আদায়ের চঁাট টাঙ্গানোর দাবী জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ছাগল ব্যবসায়ী জয়নাল ইসলাম বলেন গত ৫আগস্ট পর সেনাবাহিনী ও ইউএনও স্যার গিয়ে ছাগল বিক্রির রশিদ বাবদ ১৮০টাকা নির্ধারণ করে দিয়ে আসেন। কিন্তু গত কয়েক হাট হতে ইজারাদার রশিদ বাবদ ১৮০ টাকার পরিবর্তে ২০০টাকা ও চাঁদা বাবদ ৩০টাকা করে আদায় করছেন।অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করলে ইজারাদারসহ তাদের শতাধীক লোকজন চাপাতি,লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।
এতে বেশ কিছু ব্যবসায়ী আহত হয়। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও ছাগল ব্যবসায়ী হাসান ও মোকলেছ গুরুতর আহত হয়ে বোড়াগাড়ী মেডিকেলে ভর্তি আছেন।
ছাগল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদ করায় আমার ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে ইজারাদারের অজ্ঞাত নামা শতাধীক লোক জন। সেসময় ছাগল ব্যবসায়ি হাচান,আক্তারুল,জয়নাল,দুলাল,এরশাদুল,জাহাঙ্গীর,সুরুজ্জামান,রমজান,মোকলেছ,এরশাদ,রাশেদুল এর পকেট হতে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
হাট ইজারাদার স্বপনের মোবাইল ফোনে ফোন দিলে রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ আরিফুল ইসলাম বলেন এঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল আলম বলেন এঘটনার বিষয়ে ইজারাদারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ছাগল ১৮০টাকার বেশী নিতে পারবেনা।
টোল আদায়ের চাট টাঙ্গাঁনোর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন ইজারাদারকে অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা চাট টাঙ্গায়নি। এখানে ইজারাদারের গাফলিত রয়েছে। অতিরিক্ত টোল আদায় করলে ইজারাদার বাতিলের প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com