আনোয়ার হোসেন,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার | রবিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | ১১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
উত্তরাঞ্চলের কৃষি নির্ভরশীল জেলাগুলোর মধ্যে গাইবান্ধা অন্যতম। সারা বছর এ জনপদে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হয়। তবে এবার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন এ অঞ্চলের দুই কৃষক। বাণিজ্যিকভাবে প্রথমবারের মতো চাষ করেছেন বিদেশী সবজি বিটরুট। বিটরুটের গাছ দেখতে অনেকটা পালংশাকের মতো হলেও রঙে ভিন্নতা রয়েছে। পাতা সবুজ ও লালচে ধরনের। নিচের মূল অংশটি দেখতে গাঢ় গোলাপি বা লালচে বেগুনি রঙের। বিভিন্ন পুষ্টি ও ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজিটিকে সুপারফুডও বলা হয়। শীতকালে উৎপাদন বেশি হলেও সব সময়ই এ সবজির দেখা মেলে।
দামও সারা বছর ভালো পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জেলায় প্রথমবারের মতো ৩০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিটরুট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুপারির ভিটা গ্রামে ২০ শতক এবং ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষার পাড়া গ্রামে ১০ শতক জমিতে সবজিটি চাষ করা হয়েছে। সদর উপজেলার ললক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুপারির ভিটা গ্রামে ২০ শতক জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন ফারুকুজ্জামান ফারুক ও মাহফুজা বেগম দম্পতি। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আবাদ করেছেন তারা। কিন্তু কোনো চাষেই তেমন লাভবান হতে পারছিলেন না।
এবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের এসএমএপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় বিটরুট চাষ করেন। তিন মাসের ব্যবধানে অন্যান্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভ হয়েছে। কৃষক ফারুকুজ্জামান ফারুক বলেন, এসকেএসের ২০ হাজার টাকা সহায়তায় গত নভেম্বরে ২০ শতক জমিতে বিটরুট চাষ করেছি। এখন জমিতে প্রায় ১ হাজার কেজি বিটরুট রয়েছে। সর্বনিম্ন ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা প্রতি কেজি বিটরুট বিক্রি করছি। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে। কৃষক দম্পতি ফারুকুজ্জামান ফারুক ও মাহফুজা বেগমের বিটরুট চাষের সাফল্য দেখে উৎসাহী হচ্ছেন আশপাশের কৃষকরাও।
এ ব্যাপারে এসকেএস ফাউন্ডেশনের এসএমএপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা শুরু থেকেই কৃষকদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছি। সেইসঙ্গে বাজারজাতকরণের ব্যাপারেও সহযোগিতা করছি। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খোরশেদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, জেলায় প্রথমবারের মতো ৩০ শতক জমিতে বিটরুট চাষ হয়েছে। গাইবান্ধার মাটি বিটরুট চাষের জন্য উপযুক্ত। এটি লাভজনক ফসল। আগামীতে বিটরুট চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেয়া হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com